দিকপাল

তনু হত্যায় ময়নাতদন্তকারী সেই চিকিৎসকের দেশত্যাগের চেষ্টা


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৫৮ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

তনু হত্যায় ময়নাতদন্তকারী সেই চিকিৎসকের দেশত্যাগের চেষ্টা

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১১ বছর পর মামলাটিতে নাটকীয় মোড় এসেছে। অন্যতম সন্দেহভাজন হিসেবে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. কামাদা প্রাসাদ সাহার দেশত্যাগের গোপন চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তনুর পরিবারের দাবি, আইনি প্রক্রিয়া থেকে বাঁচতে এই চিকিৎসক বর্তমানে অনাপত্তি সনদ (NOC) সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছেন।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধারের পর প্রথম ময়নাতদন্তের দায়িত্ব পালন করেছিলেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের তৎকালীন ফরেনসিক বিভাগীয় প্রধান ডা. কামাদা প্রাসাদ সাহা। সে সময় তনুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে না পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি। এমনকি দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর পর্যবেক্ষণ দিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন এই চিকিৎসক। ভিকটিম পরিবারের দীর্ঘদিনের অভিযোগ—প্রকৃত খুনিদের আড়াল করতেই ডা. কামাদা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বানোয়াট রিপোর্ট দিয়েছিলেন।

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন গত রোববার অভিযোগ করে বলেন, "কামাদা প্রাসাদ সাহা খুনিদের সঙ্গে আঁতাত করে আমার মেয়ের হত্যার বিচার বাধাগ্রস্ত করেছেন। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজে কর্মরত থাকলেও গোপনে রাজনৈতিক আশ্রয়ের নামে যুক্তরাষ্ট্রে পালানোর পাঁয়তারা করছেন।" তিনি অবিলম্বে এই চিকিৎসকের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. কামাদা প্রাসাদ সাহার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই-এর পুলিশ পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চলমান রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে। তনুর পরিবারের বিশ্বাস, ডা. কামাদাকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনলে ১১ বছর ধরে ঝুলে থাকা এই রহস্যের জট খুলবে এবং ধামাচাপা দেওয়ার পেছনের কুশীলবদের পরিচয় উন্মোচিত হবে।

তথ্যসূত্র: পিবিআই সূত্র ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


তনু হত্যায় ময়নাতদন্তকারী সেই চিকিৎসকের দেশত্যাগের চেষ্টা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১১ বছর পর মামলাটিতে নাটকীয় মোড় এসেছে। অন্যতম সন্দেহভাজন হিসেবে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. কামাদা প্রাসাদ সাহার দেশত্যাগের গোপন চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তনুর পরিবারের দাবি, আইনি প্রক্রিয়া থেকে বাঁচতে এই চিকিৎসক বর্তমানে অনাপত্তি সনদ (NOC) সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছেন।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধারের পর প্রথম ময়নাতদন্তের দায়িত্ব পালন করেছিলেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের তৎকালীন ফরেনসিক বিভাগীয় প্রধান ডা. কামাদা প্রাসাদ সাহা। সে সময় তনুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে না পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি। এমনকি দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর পর্যবেক্ষণ দিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন এই চিকিৎসক। ভিকটিম পরিবারের দীর্ঘদিনের অভিযোগ—প্রকৃত খুনিদের আড়াল করতেই ডা. কামাদা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বানোয়াট রিপোর্ট দিয়েছিলেন।

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন গত রোববার অভিযোগ করে বলেন, "কামাদা প্রাসাদ সাহা খুনিদের সঙ্গে আঁতাত করে আমার মেয়ের হত্যার বিচার বাধাগ্রস্ত করেছেন। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজে কর্মরত থাকলেও গোপনে রাজনৈতিক আশ্রয়ের নামে যুক্তরাষ্ট্রে পালানোর পাঁয়তারা করছেন।" তিনি অবিলম্বে এই চিকিৎসকের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. কামাদা প্রাসাদ সাহার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই-এর পুলিশ পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চলমান রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে। তনুর পরিবারের বিশ্বাস, ডা. কামাদাকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনলে ১১ বছর ধরে ঝুলে থাকা এই রহস্যের জট খুলবে এবং ধামাচাপা দেওয়ার পেছনের কুশীলবদের পরিচয় উন্মোচিত হবে।

তথ্যসূত্র: পিবিআই সূত্র ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল