দিকপাল

রক্তাক্ত তিন মাস, দেশে ৮৫৪ খুন, খোদ রাজধানীতেই প্রাণ গেল ৬১ জনের


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৫৮ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

রক্তাক্ত তিন মাস, দেশে ৮৫৪ খুন, খোদ রাজধানীতেই প্রাণ গেল ৬১ জনের

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সাম্প্রতিক সময়ে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে প্রকাশ্যে গুলি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। অপরাধ জগতের পুরনো ও নতুন আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের কারাগারগুলো থেকে কিলার আব্বাস, পিচ্চি হেলাল, সানজিদুল ইসলাম ইমন ও খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনের মতো দুর্ধর্ষ শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আন্ডারওয়ার্ল্ডের সমীকরণ বদলে গেছে। জেল থেকে বেরিয়েই এই গোষ্ঠীগুলো নতুন করে চাঁদাবাজি ও এলাকা দখলের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ছে। গত মঙ্গলবার রাতে নিউমার্কেট এলাকায় খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা এই অস্থিরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। মাস্ক পরা দুর্বৃত্তরা শত শত মানুষের সামনে তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায়। ঠিক একইভাবে গত বছর পুরান ঢাকায় তারিক সাইদ মামুনকেও দিনের আলোয় হত্যা করা হয়েছিল, যা রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার নাজুক চিত্রকে বারবার সামনে আনছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যানেও এই অপরাধের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রমাণ মেলে। তথ্যমতে, ২০২৩ সালে সারা দেশে যেখানে তিন হাজার ২৩টি খুনের মামলা হয়েছিল, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৪৪২টিতে। গত বছর এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে তিন হাজার ৭৮৬টিতে পৌঁছায়। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশজুড়ে মোট ৮৫৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ঢাকাতেই প্রাণ গেছে ৬১ জনের। এপ্রিল মাসের প্রথম ২৮ দিনে কেবল রাজধানীতেই অন্তত ১৫ জন খুনের শিকার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা দাবি করছেন, অপরাধীদের ধরতে তাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং এসব সংঘাত মূলত সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন ভিন্ন কথা। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকাশ্যে এ ধরনের গুলির ঘটনা নাগরিক মনে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতা তৈরি করছে, যা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতারই নামান্তর।

বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ভিত্তিক অপরাধ জগত কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায় পিচ্চি হেলাল ও ইমনের অনুসারীদের মধ্যে চরম বিরোধ চলছে। অন্যদিকে মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় কিলার আব্বাস ও শাহাদাত সাধুর মতো সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়েছে। অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী আবার বিদেশে বসেই দেশের অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করছে। দুবাই, ভারত বা সুইডেনে অবস্থান করে তারা ফোন বা ইন্টারনেট কলের মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছে। চাঁদা না দিলে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার ও হাজারীবাগের মতো এলাকাগুলো এখন কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে রক্তাক্ত হয়ে উঠছে। অপরাধীরা খুনের পর নির্বিঘ্নে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে চলে যাওয়ায় বিচার প্রক্রিয়াও থমকে যাচ্ছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই পুনরুত্থান এবং ক্রমাগত প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিলে জননিরাপত্তা আরও বড় সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬


রক্তাক্ত তিন মাস, দেশে ৮৫৪ খুন, খোদ রাজধানীতেই প্রাণ গেল ৬১ জনের

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সাম্প্রতিক সময়ে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে প্রকাশ্যে গুলি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। অপরাধ জগতের পুরনো ও নতুন আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের কারাগারগুলো থেকে কিলার আব্বাস, পিচ্চি হেলাল, সানজিদুল ইসলাম ইমন ও খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনের মতো দুর্ধর্ষ শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আন্ডারওয়ার্ল্ডের সমীকরণ বদলে গেছে। জেল থেকে বেরিয়েই এই গোষ্ঠীগুলো নতুন করে চাঁদাবাজি ও এলাকা দখলের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ছে। গত মঙ্গলবার রাতে নিউমার্কেট এলাকায় খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা এই অস্থিরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। মাস্ক পরা দুর্বৃত্তরা শত শত মানুষের সামনে তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায়। ঠিক একইভাবে গত বছর পুরান ঢাকায় তারিক সাইদ মামুনকেও দিনের আলোয় হত্যা করা হয়েছিল, যা রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার নাজুক চিত্রকে বারবার সামনে আনছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যানেও এই অপরাধের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রমাণ মেলে। তথ্যমতে, ২০২৩ সালে সারা দেশে যেখানে তিন হাজার ২৩টি খুনের মামলা হয়েছিল, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৪৪২টিতে। গত বছর এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে তিন হাজার ৭৮৬টিতে পৌঁছায়। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশজুড়ে মোট ৮৫৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ঢাকাতেই প্রাণ গেছে ৬১ জনের। এপ্রিল মাসের প্রথম ২৮ দিনে কেবল রাজধানীতেই অন্তত ১৫ জন খুনের শিকার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা দাবি করছেন, অপরাধীদের ধরতে তাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং এসব সংঘাত মূলত সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন ভিন্ন কথা। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকাশ্যে এ ধরনের গুলির ঘটনা নাগরিক মনে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতা তৈরি করছে, যা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতারই নামান্তর।

বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ভিত্তিক অপরাধ জগত কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায় পিচ্চি হেলাল ও ইমনের অনুসারীদের মধ্যে চরম বিরোধ চলছে। অন্যদিকে মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় কিলার আব্বাস ও শাহাদাত সাধুর মতো সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়েছে। অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী আবার বিদেশে বসেই দেশের অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করছে। দুবাই, ভারত বা সুইডেনে অবস্থান করে তারা ফোন বা ইন্টারনেট কলের মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছে। চাঁদা না দিলে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার ও হাজারীবাগের মতো এলাকাগুলো এখন কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে রক্তাক্ত হয়ে উঠছে। অপরাধীরা খুনের পর নির্বিঘ্নে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে চলে যাওয়ায় বিচার প্রক্রিয়াও থমকে যাচ্ছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই পুনরুত্থান এবং ক্রমাগত প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিলে জননিরাপত্তা আরও বড় সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল