দিকপাল

চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে সোনালি স্বপ্ন, ৩ হাজার কৃষক নিঃস্ব


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৪৫ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে সোনালি স্বপ্ন, ৩ হাজার কৃষক নিঃস্ব

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বোরো ফসলের সোনালি স্বপ্নে এখন শুধুই হাহাকার। সারাবছর রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হাড়ভাঙা খাটুনি আর ঘাম ঝরানো শ্রমে যে ফসল বুনেছিলেন কৃষকরা, কালবৈশাখী ঝড় আর টানা বর্ষণে তা এখন চোখের সামনেই তলিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের চারিতলা গ্রামসহ জালিয়ার হাওর সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার মাঠের পর মাঠ ধান এখন পানির নিচে। এই দৃশ্য দেখে নিজেকে সামলাতে পারছেন না প্রান্তিক কৃষকরা; মাঠের আইলে দাঁড়িয়ে তাদের বুকফাটা কান্নায় নেত্রকোনার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাওরের অধিকাংশ ফসল এখন ভাসান পানিতে নিমজ্জিত। কোথাও কোথাও কৃষকরা কোমর সমান পানিতে নেমে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন অন্তত দু-মুঠো ধান ঘরে তুলতে।

কৃষকদের এই বিপদের মূলে উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা। জালিয়া হাওর সংলগ্ন মোজাফরপুর, মহুরিয়া, চৌকিধরাসহ কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের অভিযোগ, নদী ও খাল খনন না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই এমন বিপর্যয় নেমে আসে। চারিতলা গ্রামের কৃষক রাসেল মিল্কী ক্ষোভের সঙ্গে জানান, বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি। একই চিত্র দেখা গেছে পাটেশ্বরী নদীর ধারের গ্রামগুলোতেও। নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় উজানের পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না, যার ফলে 'আবদাইন হাওর'সহ আশেপাশের বিলগুলো দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে। কৃষক মাসুদ রানা জানান, তার মতো অসংখ্য কৃষক এবার একমুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারেননি।

কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিশাল। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমির বোরো ধান পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। এছাড়া ৭ হেক্টর পাটের জমি, সাড়ে ৫ হেক্টর সবজি এবং আউশ ধানের বীজতলাও পানির নিচে। সরকারি হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৩ হাজার ১০০ জন হলেও স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে ক্ষতির মাত্রা আরও অনেক বেশি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল সাহা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে এবং দ্রুত সহায়তার জন্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হবে। ফসল রক্ষার এই অসম লড়াইয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া নেত্রকোনার কৃষকরা এখন কেবল সরকারি সাহায্যের দিকেই তাকিয়ে আছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬


চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে সোনালি স্বপ্ন, ৩ হাজার কৃষক নিঃস্ব

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বোরো ফসলের সোনালি স্বপ্নে এখন শুধুই হাহাকার। সারাবছর রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হাড়ভাঙা খাটুনি আর ঘাম ঝরানো শ্রমে যে ফসল বুনেছিলেন কৃষকরা, কালবৈশাখী ঝড় আর টানা বর্ষণে তা এখন চোখের সামনেই তলিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের চারিতলা গ্রামসহ জালিয়ার হাওর সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার মাঠের পর মাঠ ধান এখন পানির নিচে। এই দৃশ্য দেখে নিজেকে সামলাতে পারছেন না প্রান্তিক কৃষকরা; মাঠের আইলে দাঁড়িয়ে তাদের বুকফাটা কান্নায় নেত্রকোনার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাওরের অধিকাংশ ফসল এখন ভাসান পানিতে নিমজ্জিত। কোথাও কোথাও কৃষকরা কোমর সমান পানিতে নেমে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন অন্তত দু-মুঠো ধান ঘরে তুলতে।

কৃষকদের এই বিপদের মূলে উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা। জালিয়া হাওর সংলগ্ন মোজাফরপুর, মহুরিয়া, চৌকিধরাসহ কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের অভিযোগ, নদী ও খাল খনন না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই এমন বিপর্যয় নেমে আসে। চারিতলা গ্রামের কৃষক রাসেল মিল্কী ক্ষোভের সঙ্গে জানান, বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি। একই চিত্র দেখা গেছে পাটেশ্বরী নদীর ধারের গ্রামগুলোতেও। নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় উজানের পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না, যার ফলে 'আবদাইন হাওর'সহ আশেপাশের বিলগুলো দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে। কৃষক মাসুদ রানা জানান, তার মতো অসংখ্য কৃষক এবার একমুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারেননি।

কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিশাল। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমির বোরো ধান পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। এছাড়া ৭ হেক্টর পাটের জমি, সাড়ে ৫ হেক্টর সবজি এবং আউশ ধানের বীজতলাও পানির নিচে। সরকারি হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৩ হাজার ১০০ জন হলেও স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে ক্ষতির মাত্রা আরও অনেক বেশি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল সাহা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে এবং দ্রুত সহায়তার জন্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হবে। ফসল রক্ষার এই অসম লড়াইয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া নেত্রকোনার কৃষকরা এখন কেবল সরকারি সাহায্যের দিকেই তাকিয়ে আছেন।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল