ভারতে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যাপক প্রসারের সমান্তরালে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অভিনব সব সাইবার জালিয়াতি। এক সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কেবল ২০২৫ সালেই প্রায় ২৫ লক্ষ ভারতীয় নাগরিক ডিজিটাল জালিয়াতির শিকার হয়ে প্রায় ২৫০ কোটি ডলার সমমূল্যের অর্থ হারিয়েছেন। উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০২১ সালের তুলনায় এই প্রতারণার হার বর্তমানে প্রায় ৪৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতারকরা এখন সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মতো কৌশলের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খালি করে দিচ্ছে।
এই ভয়াবহ জালিয়াতির একটি বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে পুনে শহরের জনৈক ব্যবসা বিশ্লেষক অলোকের (ছদ্মনাম) অভিজ্ঞতায়। গত ফেব্রুয়ারিতে তার মুঠোফোনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের একটি ভুয়া জরিমানা সংক্রান্ত বার্তা পাঠানো হয়। লাইসেন্স বাতিলের ভয় দেখিয়ে তাকে একটি লিঙ্কে ক্লিক করতে বাধ্য করা হয় এবং ওটিপি (OTP) শেয়ার করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার ক্রেডিট কার্ড থেকে ৩,২২৫ ডলার হাতিয়ে নেয় চক্রটি। মূলত সরকারি ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি করা ‘ফিশিং লিঙ্ক’ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করাই এই প্রতারকদের প্রধান কৌশল।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) কঠোর পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে। সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বড় অঙ্কের বা অ্যাকাউন্ট-টু-অ্যাকাউন্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে অন্তত এক ঘণ্টার বিলম্ব পদ্ধতি চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে লেনদেনের সময় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ধাপ হিসেবে ‘বিশ্বস্ত দ্বিতীয় ব্যক্তি’র মাধ্যমে যাচাইকরণ পদ্ধতি চালুর প্রস্তাবনাও রয়েছে। তবে ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুতগতির যুগে এই বিলম্ব পদ্ধতি কতটা কার্যকর বা জনপ্রিয় হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
ভারতে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যাপক প্রসারের সমান্তরালে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অভিনব সব সাইবার জালিয়াতি। এক সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কেবল ২০২৫ সালেই প্রায় ২৫ লক্ষ ভারতীয় নাগরিক ডিজিটাল জালিয়াতির শিকার হয়ে প্রায় ২৫০ কোটি ডলার সমমূল্যের অর্থ হারিয়েছেন। উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০২১ সালের তুলনায় এই প্রতারণার হার বর্তমানে প্রায় ৪৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতারকরা এখন সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মতো কৌশলের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খালি করে দিচ্ছে।
এই ভয়াবহ জালিয়াতির একটি বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে পুনে শহরের জনৈক ব্যবসা বিশ্লেষক অলোকের (ছদ্মনাম) অভিজ্ঞতায়। গত ফেব্রুয়ারিতে তার মুঠোফোনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের একটি ভুয়া জরিমানা সংক্রান্ত বার্তা পাঠানো হয়। লাইসেন্স বাতিলের ভয় দেখিয়ে তাকে একটি লিঙ্কে ক্লিক করতে বাধ্য করা হয় এবং ওটিপি (OTP) শেয়ার করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার ক্রেডিট কার্ড থেকে ৩,২২৫ ডলার হাতিয়ে নেয় চক্রটি। মূলত সরকারি ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি করা ‘ফিশিং লিঙ্ক’ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করাই এই প্রতারকদের প্রধান কৌশল।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) কঠোর পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে। সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বড় অঙ্কের বা অ্যাকাউন্ট-টু-অ্যাকাউন্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে অন্তত এক ঘণ্টার বিলম্ব পদ্ধতি চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে লেনদেনের সময় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ধাপ হিসেবে ‘বিশ্বস্ত দ্বিতীয় ব্যক্তি’র মাধ্যমে যাচাইকরণ পদ্ধতি চালুর প্রস্তাবনাও রয়েছে। তবে ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুতগতির যুগে এই বিলম্ব পদ্ধতি কতটা কার্যকর বা জনপ্রিয় হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

আপনার মতামত লিখুন