দিকপাল

ইরানের যুদ্ধবিমান রক্ষায় পাকিস্তানের সহায়তা? রিপোর্টে উঠল চাঞ্চল্যকর দাবি!


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ | ১০:০০ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানের যুদ্ধবিমান রক্ষায় পাকিস্তানের সহায়তা? রিপোর্টে উঠল চাঞ্চল্যকর দাবি!

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, সম্ভাব্য ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলা থেকে নিজেদের মূল্যবান সামরিক সরঞ্জাম রক্ষা করতে ইরানের বিমানবাহিনী তাদের বেশ কিছু বিমান পাকিস্তানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে সরিয়ে নিয়েছে। প্রতিবেদনটি অনুযায়ী, রাওয়ালপিন্ডিতে অবস্থিত নূর খান বিমানঘাঁটিতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানগুলো পার্কিং করার সুযোগ করে দিয়েছে ইসলামাবাদ। শুধু পাকিস্তানই নয়, ইরান তাদের কিছু বেসামরিক বিমান প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানেও পাঠিয়েছে বলে ওই তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও আফগানিস্তানে সামরিক কোনো সরঞ্জাম নেওয়া হয়েছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, তেহরান তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা এবং নজরদারি সরঞ্জামগুলো রক্ষার জন্য এই কৌশল অবলম্বন করেছে। বিশেষ করে ইরানের বিমানবাহিনীর আরসি-১৩০ নজরদারি বিমান এবং লকহিড মার্টিনের তৈরি সি-১৩০ পরিবহন বিমানগুলো বর্তমানে পাকিস্তানের এই ঘাঁটিতে অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিমানগুলো ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলো শত্রুদেশের নাগালের বাইরে রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, পাকিস্তান যখন ইরানকে এই সামরিক আশ্রয় প্রদান করেছে, ঠিক সেই একই সময়ে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করে আসছিল।

ঘটনার সময়কাল সম্পর্কে মার্কিন একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যে উঠে এসেছে নতুন মাত্রা। তার মতে, গত এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন, ঠিক তার পরপরই এই বিমান স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়। পাকিস্তানের মাটিতে ইরানের এই উপস্থিতির বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ কৌতূহল ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, কারণ পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও এক ধরণের প্রতিরক্ষা ভারসাম্য বজায় রেখে চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের বিমানকে জায়গা দেওয়া ইসলামাবাদের জন্য একটি বড় ধরণের কূটনৈতিক ঝুঁকি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

তবে পাকিস্তান সরকার শুরু থেকেই এই পুরো বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে অস্বীকার করে আসছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মতে, সিবিএস নিউজের এই দাবি ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতা বর্জিত। তারা যুক্তি দিয়ে বলছেন যে, রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিটি কোনো জনমানবহীন স্থানে নয়, বরং অত্যন্ত জনবহুল একটি এলাকার ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। যদি সেখানে বিদেশি কোনো দেশের এতো বিপুল সংখ্যক সামরিক বিমান রাখা হতো, তবে তা স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ মানুষের নজর এড়িয়ে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। পাকিস্তান দাবি করছে যে, তাদের সার্বভৌমত্ব এবং সামরিক কৌশল নিয়ে এ ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে যা সত্য নয়। তবুও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এই দাবি এই অঞ্চলের রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


সূত্র: সিবিএস নিউজ


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


ইরানের যুদ্ধবিমান রক্ষায় পাকিস্তানের সহায়তা? রিপোর্টে উঠল চাঞ্চল্যকর দাবি!

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, সম্ভাব্য ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলা থেকে নিজেদের মূল্যবান সামরিক সরঞ্জাম রক্ষা করতে ইরানের বিমানবাহিনী তাদের বেশ কিছু বিমান পাকিস্তানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে সরিয়ে নিয়েছে। প্রতিবেদনটি অনুযায়ী, রাওয়ালপিন্ডিতে অবস্থিত নূর খান বিমানঘাঁটিতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানগুলো পার্কিং করার সুযোগ করে দিয়েছে ইসলামাবাদ। শুধু পাকিস্তানই নয়, ইরান তাদের কিছু বেসামরিক বিমান প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানেও পাঠিয়েছে বলে ওই তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও আফগানিস্তানে সামরিক কোনো সরঞ্জাম নেওয়া হয়েছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, তেহরান তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা এবং নজরদারি সরঞ্জামগুলো রক্ষার জন্য এই কৌশল অবলম্বন করেছে। বিশেষ করে ইরানের বিমানবাহিনীর আরসি-১৩০ নজরদারি বিমান এবং লকহিড মার্টিনের তৈরি সি-১৩০ পরিবহন বিমানগুলো বর্তমানে পাকিস্তানের এই ঘাঁটিতে অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিমানগুলো ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলো শত্রুদেশের নাগালের বাইরে রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, পাকিস্তান যখন ইরানকে এই সামরিক আশ্রয় প্রদান করেছে, ঠিক সেই একই সময়ে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করে আসছিল।

ঘটনার সময়কাল সম্পর্কে মার্কিন একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যে উঠে এসেছে নতুন মাত্রা। তার মতে, গত এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন, ঠিক তার পরপরই এই বিমান স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়। পাকিস্তানের মাটিতে ইরানের এই উপস্থিতির বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ কৌতূহল ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, কারণ পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও এক ধরণের প্রতিরক্ষা ভারসাম্য বজায় রেখে চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের বিমানকে জায়গা দেওয়া ইসলামাবাদের জন্য একটি বড় ধরণের কূটনৈতিক ঝুঁকি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

তবে পাকিস্তান সরকার শুরু থেকেই এই পুরো বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে অস্বীকার করে আসছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মতে, সিবিএস নিউজের এই দাবি ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতা বর্জিত। তারা যুক্তি দিয়ে বলছেন যে, রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিটি কোনো জনমানবহীন স্থানে নয়, বরং অত্যন্ত জনবহুল একটি এলাকার ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। যদি সেখানে বিদেশি কোনো দেশের এতো বিপুল সংখ্যক সামরিক বিমান রাখা হতো, তবে তা স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ মানুষের নজর এড়িয়ে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। পাকিস্তান দাবি করছে যে, তাদের সার্বভৌমত্ব এবং সামরিক কৌশল নিয়ে এ ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে যা সত্য নয়। তবুও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এই দাবি এই অঞ্চলের রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


সূত্র: সিবিএস নিউজ



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল