দিকপাল

যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ইরানের প্রস্তাব গ্রহণ ছাড়া আর কোনো পথ নেই: গালিবাফ


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ | ১১:৪৯ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ইরানের প্রস্তাব গ্রহণ ছাড়া আর কোনো পথ নেই: গালিবাফ

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান দীর্ঘদিনের সংঘাত ও উত্তেজনা নিরসনে তেহরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত চৌদ্দ দফা প্রস্তাব মেনে নেওয়া ছাড়া ওয়াশিংটনের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো ইরানের প্রস্তাবিত শর্তগুলো মেনে নেওয়া। গালিবাফ মনে করেন, ইরানি জনগণের ন্যায্য অধিকার রক্ষা এবং এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে মার্কিন প্রশাসনকে অবশ্যই বাস্তববাদী হতে হবে।

ইরানের এই প্রভাবশালী নেতা তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে, শান্তি স্থাপনের জন্য ইরান যে রূপরেখা দিয়েছে তা উপেক্ষা করে অন্য কোনো পন্থায় সংঘাত মেটানোর চেষ্টা হবে সম্পূর্ণ নিরর্থক। যুক্তরাষ্ট্র যদি এই প্রস্তাব গ্রহণ করতে দেরি করে বা গড়িমসি করে, তবে তার চড়া মূল্য দিতে হবে খোদ মার্কিন করদাতাদের। তিনি দাবি করেন, তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো প্রতিকূল পদক্ষেপ কেবল ওয়াশিংটনের ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী করবে এবং তাদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থকে আরও বেশি ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে। গালিবাফের এই মন্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, ইরান তাদের জাতীয় অধিকার রক্ষার প্রশ্নে কোনো প্রকার আপস করতে রাজি নয় এবং তারা ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল বজায় রাখছে।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপট বেশ গভীর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি প্রাথমিক প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইরান তার নিজস্ব শর্তাবলি সম্বলিত একটি পাল্টা জবাব পাঠায়। প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান এই বার্তাটি ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে। তবে দুই দেশের মধ্যকার এই আলোচনার সম্ভাবনা আপাতত ভেস্তে যাওয়ার পথে, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া সেই জবাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, ইরানের প্রতিনিধিদের পাঠানো সেই প্রস্তাবটি তাঁর কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। তিনি এই জবাবের কড়া সমালোচনা করে জানান যে, এটি মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী। ফলে তেহরানের চৌদ্দ দফা প্রস্তাব এবং ট্রাম্পের অনড় অবস্থান—এই দুই মেরুর অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে নতুন করে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। গালিবাফ যেখানে দাবি করছেন এই প্রস্তাব মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনো বিকল্প নেই, সেখানে ওয়াশিংটন একে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা আগামী দিনে দুই দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ইরানের প্রস্তাব গ্রহণ ছাড়া আর কোনো পথ নেই: গালিবাফ

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান দীর্ঘদিনের সংঘাত ও উত্তেজনা নিরসনে তেহরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত চৌদ্দ দফা প্রস্তাব মেনে নেওয়া ছাড়া ওয়াশিংটনের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো ইরানের প্রস্তাবিত শর্তগুলো মেনে নেওয়া। গালিবাফ মনে করেন, ইরানি জনগণের ন্যায্য অধিকার রক্ষা এবং এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে মার্কিন প্রশাসনকে অবশ্যই বাস্তববাদী হতে হবে।

ইরানের এই প্রভাবশালী নেতা তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে, শান্তি স্থাপনের জন্য ইরান যে রূপরেখা দিয়েছে তা উপেক্ষা করে অন্য কোনো পন্থায় সংঘাত মেটানোর চেষ্টা হবে সম্পূর্ণ নিরর্থক। যুক্তরাষ্ট্র যদি এই প্রস্তাব গ্রহণ করতে দেরি করে বা গড়িমসি করে, তবে তার চড়া মূল্য দিতে হবে খোদ মার্কিন করদাতাদের। তিনি দাবি করেন, তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো প্রতিকূল পদক্ষেপ কেবল ওয়াশিংটনের ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী করবে এবং তাদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থকে আরও বেশি ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে। গালিবাফের এই মন্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, ইরান তাদের জাতীয় অধিকার রক্ষার প্রশ্নে কোনো প্রকার আপস করতে রাজি নয় এবং তারা ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল বজায় রাখছে।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপট বেশ গভীর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি প্রাথমিক প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইরান তার নিজস্ব শর্তাবলি সম্বলিত একটি পাল্টা জবাব পাঠায়। প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান এই বার্তাটি ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে। তবে দুই দেশের মধ্যকার এই আলোচনার সম্ভাবনা আপাতত ভেস্তে যাওয়ার পথে, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া সেই জবাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, ইরানের প্রতিনিধিদের পাঠানো সেই প্রস্তাবটি তাঁর কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। তিনি এই জবাবের কড়া সমালোচনা করে জানান যে, এটি মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী। ফলে তেহরানের চৌদ্দ দফা প্রস্তাব এবং ট্রাম্পের অনড় অবস্থান—এই দুই মেরুর অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে নতুন করে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। গালিবাফ যেখানে দাবি করছেন এই প্রস্তাব মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনো বিকল্প নেই, সেখানে ওয়াশিংটন একে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা আগামী দিনে দুই দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল