দিকপাল

“চাঁদে চীনের এআই রোবট” — মহাকাশ দৌড়ে নতুন বিস্ময়!


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ | ০২:৫৮ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

“চাঁদে চীনের এআই রোবট” — মহাকাশ দৌড়ে নতুন বিস্ময়!

আসন্ন চন্দ্র অভিযানকে কেন্দ্র করে মহাকাশ বিজ্ঞানে এক বিশাল চমক নিয়ে হাজির হয়েছে চীন। হংকংয়ের বিজ্ঞানীদের নিপুণ কারুকার্যে তৈরি করা হয়েছে অত্যন্ত উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন একটি বিশেষ রোবট, যা মানুষের অবয়বের আদলে তৈরি। এই হিউম্যানয়েড রোবটটি মূলত চাঁদের দুর্গম দক্ষিণ মেরুতে বৈজ্ঞানিক নানা যন্ত্রপাতি বহন এবং সেগুলো সঠিক স্থানে স্থাপনের গুরুদায়িত্ব পালন করবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের বুকে সরাসরি নভোচারী পাঠানোর যে বিশাল লক্ষ্য চীন স্থির করেছে, এটি তারই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালে শুরু হতে যাওয়া ‘চাং-ই-৮’ অভিযানের মাধ্যমে এই বিশেষ রোবটটিকে চাঁদে অবতরণ করানো হবে। হংকং ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকদের নকশা করা এই রোবটটির ওজন প্রায় একশ কেজি। এটি মূলত মহাকাশচারীদের সহকারী হিসেবে কাজ করবে। নভোচারীরা সরাসরি চাঁদের মাটিতে পা রাখার অনেক আগেই এই রোবটটি সেখানে পৌঁছে যাবে এবং বিভিন্ন জটিল বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আনা-নেওয়া করে গবেষণার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করবে। এই রোবটটির গঠন বেশ বৈচিত্র্যময়; এর শরীরের উপরের অংশ মানুষের মতো এবং দুটি শক্তিশালী হাত রয়েছে, যা সূক্ষ্ম কাজ করতে সক্ষম। অন্যদিকে এর নিচের অংশে যুক্ত করা হয়েছে চার চাকার একটি বিশেষ মডিউল, যা সৌরশক্তির সাহায্যে পরিচালিত হবে এবং চাঁদের এবড়োখেবড়ো মাটিতে অনায়াসেই চলাচল করতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষক দল মনে করছে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে রোবটের এই ব্যবহার বিশ্ব মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। রোবটটিতে যুক্ত করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। এটি কেবল কোনো বস্তু শনাক্ত করাই নয়, বরং সেটির অবস্থান ও গতিবিধিও নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এর ফলে কোনো কাজ শুরু করার আগেই রোবটটি নিজের মেধা খাটিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি করতে সক্ষম হবে। গত কয়েক দশক ধরে চীন যেভাবে মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে আসছে, এই প্রজেক্টটি তাদের সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসাও পিছিয়ে নেই। তারাও ২০২৮ সালের মধ্যে তাদের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে মানুষ পাঠানোর স্বপ্ন দেখছে। তবে বিভিন্ন কারিগরি জটিলতা এবং সময়সূচির বারবার পরিবর্তনের কারণে তাদের এই লক্ষ্য কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি সংক্রান্ত জটিল প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ধীরগতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এই দৌড়ে চীনের কাছে পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। নাসার সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও মনে করছেন, পরিস্থিতি এমন থাকলে চাঁদের দখল নেওয়ার এই লড়াইয়ে চীন হয়তো শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে পারে। সব মিলিয়ে মহাকাশে মানুষের আধিপত্য বিস্তারের এই লড়াই এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


“চাঁদে চীনের এআই রোবট” — মহাকাশ দৌড়ে নতুন বিস্ময়!

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

আসন্ন চন্দ্র অভিযানকে কেন্দ্র করে মহাকাশ বিজ্ঞানে এক বিশাল চমক নিয়ে হাজির হয়েছে চীন। হংকংয়ের বিজ্ঞানীদের নিপুণ কারুকার্যে তৈরি করা হয়েছে অত্যন্ত উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন একটি বিশেষ রোবট, যা মানুষের অবয়বের আদলে তৈরি। এই হিউম্যানয়েড রোবটটি মূলত চাঁদের দুর্গম দক্ষিণ মেরুতে বৈজ্ঞানিক নানা যন্ত্রপাতি বহন এবং সেগুলো সঠিক স্থানে স্থাপনের গুরুদায়িত্ব পালন করবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের বুকে সরাসরি নভোচারী পাঠানোর যে বিশাল লক্ষ্য চীন স্থির করেছে, এটি তারই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালে শুরু হতে যাওয়া ‘চাং-ই-৮’ অভিযানের মাধ্যমে এই বিশেষ রোবটটিকে চাঁদে অবতরণ করানো হবে। হংকং ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকদের নকশা করা এই রোবটটির ওজন প্রায় একশ কেজি। এটি মূলত মহাকাশচারীদের সহকারী হিসেবে কাজ করবে। নভোচারীরা সরাসরি চাঁদের মাটিতে পা রাখার অনেক আগেই এই রোবটটি সেখানে পৌঁছে যাবে এবং বিভিন্ন জটিল বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আনা-নেওয়া করে গবেষণার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করবে। এই রোবটটির গঠন বেশ বৈচিত্র্যময়; এর শরীরের উপরের অংশ মানুষের মতো এবং দুটি শক্তিশালী হাত রয়েছে, যা সূক্ষ্ম কাজ করতে সক্ষম। অন্যদিকে এর নিচের অংশে যুক্ত করা হয়েছে চার চাকার একটি বিশেষ মডিউল, যা সৌরশক্তির সাহায্যে পরিচালিত হবে এবং চাঁদের এবড়োখেবড়ো মাটিতে অনায়াসেই চলাচল করতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষক দল মনে করছে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে রোবটের এই ব্যবহার বিশ্ব মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। রোবটটিতে যুক্ত করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। এটি কেবল কোনো বস্তু শনাক্ত করাই নয়, বরং সেটির অবস্থান ও গতিবিধিও নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এর ফলে কোনো কাজ শুরু করার আগেই রোবটটি নিজের মেধা খাটিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি করতে সক্ষম হবে। গত কয়েক দশক ধরে চীন যেভাবে মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে আসছে, এই প্রজেক্টটি তাদের সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসাও পিছিয়ে নেই। তারাও ২০২৮ সালের মধ্যে তাদের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে মানুষ পাঠানোর স্বপ্ন দেখছে। তবে বিভিন্ন কারিগরি জটিলতা এবং সময়সূচির বারবার পরিবর্তনের কারণে তাদের এই লক্ষ্য কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি সংক্রান্ত জটিল প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ধীরগতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এই দৌড়ে চীনের কাছে পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। নাসার সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও মনে করছেন, পরিস্থিতি এমন থাকলে চাঁদের দখল নেওয়ার এই লড়াইয়ে চীন হয়তো শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে পারে। সব মিলিয়ে মহাকাশে মানুষের আধিপত্য বিস্তারের এই লড়াই এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল