জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় একটি ফসলি জমি থেকে হাত-পা বাঁধা ও মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তির নাম আশরাফুল ইসলাম লালো, যিনি উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণকোলা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় কৃষকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। লাশের পরনে থাকা পোশাকের পকেট থেকে একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়, যার সূত্র ধরেই দীর্ঘ তল্লাশির পর নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে আশরাফুল ইসলাম নিজের বাড়িতে রাতের খাবার শেষ করে সামান্য সময়ের জন্য বাইরে বের হয়েছিলেন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিহতের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় সন্ধান করেও তার দেখা পাননি। নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর মঙ্গলবার দুপুরে তিলকপুর এলাকার একটি বোরো ধানক্ষেতের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পথচারীরা তীব্র দুর্গন্ধ পান। কৌতূহলবশত তারা এগিয়ে গেলে জমির এক কোণে মাটিচাপা অবস্থায় মানুষের হাত বেরিয়ে থাকতে দেখেন। মুহূর্তের মধ্যেই খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি খুঁড়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহটি বের করে আনে। পরে থানায় এসে নিহতের স্ত্রী নাসিমা বেগম ও ছেলে রাব্বি মরদেহটি শনাক্ত করেন।
নিহত আশরাফুলের স্ত্রী নাসিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, বেশ কয়েক মাস ধরে তাদের পারিবারিক একটি পুকুর নিয়ে প্রতিবেশী কয়েকজন ব্যক্তির সাথে চরম বিরোধ চলছিল। তার আশঙ্কা, এই পুরনো শত্রুতার জের ধরেই তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ঘটনায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ধানক্ষেতের মতো প্রকাশ্য জায়গায় এমন নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা পুরো উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে স্পষ্ট যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দুই থেকে তিন দিন আগে তাকে হত্যা করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে নির্জন মাঠে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। প্রযুক্তির সহায়তা এবং স্থানীয় সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দ্রুতই খুনিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় একটি ফসলি জমি থেকে হাত-পা বাঁধা ও মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তির নাম আশরাফুল ইসলাম লালো, যিনি উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণকোলা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় কৃষকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। লাশের পরনে থাকা পোশাকের পকেট থেকে একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়, যার সূত্র ধরেই দীর্ঘ তল্লাশির পর নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে আশরাফুল ইসলাম নিজের বাড়িতে রাতের খাবার শেষ করে সামান্য সময়ের জন্য বাইরে বের হয়েছিলেন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিহতের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় সন্ধান করেও তার দেখা পাননি। নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর মঙ্গলবার দুপুরে তিলকপুর এলাকার একটি বোরো ধানক্ষেতের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পথচারীরা তীব্র দুর্গন্ধ পান। কৌতূহলবশত তারা এগিয়ে গেলে জমির এক কোণে মাটিচাপা অবস্থায় মানুষের হাত বেরিয়ে থাকতে দেখেন। মুহূর্তের মধ্যেই খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি খুঁড়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহটি বের করে আনে। পরে থানায় এসে নিহতের স্ত্রী নাসিমা বেগম ও ছেলে রাব্বি মরদেহটি শনাক্ত করেন।
নিহত আশরাফুলের স্ত্রী নাসিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, বেশ কয়েক মাস ধরে তাদের পারিবারিক একটি পুকুর নিয়ে প্রতিবেশী কয়েকজন ব্যক্তির সাথে চরম বিরোধ চলছিল। তার আশঙ্কা, এই পুরনো শত্রুতার জের ধরেই তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ঘটনায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ধানক্ষেতের মতো প্রকাশ্য জায়গায় এমন নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা পুরো উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে স্পষ্ট যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দুই থেকে তিন দিন আগে তাকে হত্যা করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে নির্জন মাঠে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। প্রযুক্তির সহায়তা এবং স্থানীয় সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দ্রুতই খুনিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন