দিকপাল

শিক্ষার্থীদের ভর্তি সহায়তায় নতুন সরকারি উদ্যোগ


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ | ০১:৫৮ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষার্থীদের ভর্তি সহায়তায় নতুন সরকারি উদ্যোগ

দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের মেধাবী অথচ আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া ও অধ্যয়নরত অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। দীর্ঘদিনের এই প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত চলমান থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগ্রহী শিক্ষার্থীরা আজ ১৪ মে সকাল নয়টা থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ওয়েব ঠিকানায় গিয়ে অনলাইনে নিজেদের আবেদন জমা দিতে পারবেন। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে, যাতে করে দেশের যে কোনো প্রান্তের যোগ্য শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই এই সুবিধা পেতে পারেন। আবেদনের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৪ জুন দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত।

তবে এই সহায়তা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড ও শর্তাবলি নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থীকে অবশ্যই মেধাবী হতে হবে এবং তার প্রমাণস্বরূপ পূর্ববর্তী পরীক্ষায় ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর অথবা জিপিএ ৫-এর বিপরীতে ৩.৫০ অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক অবস্থার বিষয়টিও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। যে সকল শিক্ষার্থীর অভিভাবকের বার্ষিক আয় তিন লাখ টাকার নিচে, কেবল তারাই এই বিশেষ সহায়তার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

আবেদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় নথি ডিজিটাল মাধ্যমে আপলোড করতে হবে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন সনদ, বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি, ছবি এবং অনলাইন লেনদেনে সক্ষম ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রদান করা বাধ্যতামূলক। বিশেষ কোটা বা অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রেও যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। এতিম, প্রতিবন্ধী, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষার্থী বা অভিভাবক, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং সরকারের নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া সনদপত্র যুক্ত করতে হবে। এছাড়া হতদরিদ্র পরিবারের পরিচয় নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হবে।

পুরো কার্যক্রমটি যেহেতু অনলাইন ভিত্তিক, তাই কোনো নথিপত্র সরাসরি বা ডাকযোগে পাঠানোর প্রয়োজন নেই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সহায়তা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য তিনটি হেল্পলাইন নম্বর সচল রাখা হয়েছে, যেখানে অফিস চলাকালীন সময়ে যোগাযোগ করে যেকোনো সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে। ভর্তি সহায়তা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্যের জন্য অফিস চলাকালীন (সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা) হেল্পলাইন নম্বরগুলোতে (০২-৫৫০০০৪২৮, ০১৭৭৮৯৫৮৩৫৬ ও ০১৭৭৮৯৬৪১৫৬) যোগাযোগ করা যাবে  ।  সরকারের এই মহতী উদ্যোগের ফলে বহু সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী অর্থাভাবে শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়া থেকে রক্ষা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬


শিক্ষার্থীদের ভর্তি সহায়তায় নতুন সরকারি উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের মেধাবী অথচ আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া ও অধ্যয়নরত অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। দীর্ঘদিনের এই প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত চলমান থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগ্রহী শিক্ষার্থীরা আজ ১৪ মে সকাল নয়টা থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ওয়েব ঠিকানায় গিয়ে অনলাইনে নিজেদের আবেদন জমা দিতে পারবেন। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে, যাতে করে দেশের যে কোনো প্রান্তের যোগ্য শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই এই সুবিধা পেতে পারেন। আবেদনের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৪ জুন দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত।

তবে এই সহায়তা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড ও শর্তাবলি নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থীকে অবশ্যই মেধাবী হতে হবে এবং তার প্রমাণস্বরূপ পূর্ববর্তী পরীক্ষায় ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর অথবা জিপিএ ৫-এর বিপরীতে ৩.৫০ অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক অবস্থার বিষয়টিও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। যে সকল শিক্ষার্থীর অভিভাবকের বার্ষিক আয় তিন লাখ টাকার নিচে, কেবল তারাই এই বিশেষ সহায়তার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

আবেদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় নথি ডিজিটাল মাধ্যমে আপলোড করতে হবে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন সনদ, বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি, ছবি এবং অনলাইন লেনদেনে সক্ষম ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রদান করা বাধ্যতামূলক। বিশেষ কোটা বা অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রেও যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। এতিম, প্রতিবন্ধী, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষার্থী বা অভিভাবক, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং সরকারের নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া সনদপত্র যুক্ত করতে হবে। এছাড়া হতদরিদ্র পরিবারের পরিচয় নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হবে।

পুরো কার্যক্রমটি যেহেতু অনলাইন ভিত্তিক, তাই কোনো নথিপত্র সরাসরি বা ডাকযোগে পাঠানোর প্রয়োজন নেই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সহায়তা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য তিনটি হেল্পলাইন নম্বর সচল রাখা হয়েছে, যেখানে অফিস চলাকালীন সময়ে যোগাযোগ করে যেকোনো সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে। ভর্তি সহায়তা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্যের জন্য অফিস চলাকালীন (সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা) হেল্পলাইন নম্বরগুলোতে (০২-৫৫০০০৪২৮, ০১৭৭৮৯৫৮৩৫৬ ও ০১৭৭৮৯৬৪১৫৬) যোগাযোগ করা যাবে  ।  সরকারের এই মহতী উদ্যোগের ফলে বহু সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী অর্থাভাবে শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়া থেকে রক্ষা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল