রাজধানীর বিভিন্ন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসগুলোতে শক্তিশালী দালালচক্রের বেপরোয়া দৌরাত্ম্য এবং সীমাহীন প্রভাবের কারণে সাধারণ এবং নিরীহ সেবাপ্রত্যাশী মানুষের ভোগান্তি এখন চরম ও উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। কোনো রকম মধ্যস্থতাকারী বা দালাল ছাড়া সাধারণ নাগরিকেরা যখন সম্পূর্ণ বৈধ উপায়ে নিজেদের প্রয়োজনীয় আবেদনপত্রটি সরাসরি কাউন্টারে জমা দিতে যান, তখন দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নানামুখী অযৌক্তিক প্রশ্ন, কঠোর জেরা এবং সামান্যতম ভুল বা তথ্যের অতি সূক্ষ্ম গরমিল পেলেই আবেদনপত্রটি সরাসরি বাতিল করে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যায় দালালদের মাধ্যমে গেলে। দালালের শরণাপন্ন হলে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার তীব্র শারীরিক ভোগান্তি ছাড়াই অত্যন্ত অলৌকিকভাবে মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ দেওয়া থেকে শুরু করে সমস্ত প্রক্রিয়া অনায়াসে সম্পন্ন হয়ে যায়। সচেতন মহলে প্রবল অভিযোগ রয়েছে যে, এই দালালচক্রের সদস্যদের সাথে পাসপোর্ট অফিসের একশ্রেণির অসাধু ও দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গভীর ও বিশেষ যোগসাজশ রয়েছে, যার ফলে শুধুমাত্র অবৈধ অর্থ বা অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে যেকোনো ধরনের বড় বড় সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান মিলছে। যদিও যথারীতি পাসপোর্ট অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চত্বরে দালালদের এমন প্রকাশ্য উপস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের হয়রানির সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে দাবি করছেন যে, তাদের দাপ্তরিক কার্যালয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতিকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেওয়া হয় না।
সম্প্রতি গত ১২ মে বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী পাসপোর্ট অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মূল প্রবেশদ্বারের দুই পাশে বেশ কয়েকজন যুবক ওত পেতে দাঁড়িয়ে আছেন। কোনো সাধারণ মানুষ ভেতরে প্রবেশ করতে গেলেই তারা পেছন থেকে কাজের ধরন জানতে চেয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এমনকি উত্তরের অপেক্ষা না করেই রীতিমতো পাল্লা দিয়ে সেবাপ্রত্যাশীদের সাথে অফিসের ভেতরে ঢুকে যান। এই যুবকদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে অফিসের কর্মকর্তারা এক অদ্ভুত অজুহাত দিয়ে দাবি করেন যে, এরা কেউ দালাল নন, বরং আশপাশের বিভিন্ন কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকানের কর্মী। তারা মূলত পাসপোর্টের ফরম পূরণসহ ছোটখাটো টেকনিক্যাল কাজের বিনিময়ে সামান্য কিছু পারিশ্রমিক নেন। তবে সেখানে আসা সাধারণ মানুষের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভুক্তভোগীদের মতে, যাত্রাবাড়ী পাসপোর্ট অফিসে ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। ফরম জমা দেওয়ার লাইন থেকে শুরু করে ছবি তোলা এবং পাসপোর্ট নেওয়ার প্রতিটি ধাপে রয়েছে সীমাহীন সিরিয়াল। কিন্তু এই সাধারণ সমস্যাগুলোই নিমিষে হাওয়া হয়ে যায় যদি কেউ আশপাশের কম্পিউটার দোকানের দালালদের কাছে যান। সেখানে রীতিমতো এক ছাদের নিচে সব মুশকিল আসান বা তাৎক্ষণিক সেবা মেলে। সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা দিলে যেকোনো ছোটখাটো সমস্যার সমাধান মেলে। এমনকি বয়স পরিবর্তন বা জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনের মতো বড় ধরনের ভুলের ক্ষেত্রে এই চক্রটি পঞ্চাশ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। শ্যামপুরের এক ভুক্তভোগী বাসিন্দা জানান, সরাসরি লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যর্থ হয়ে অফিসের গেটেই এক দালালকে দুই হাজার টাকা দেওয়ার পর তাঁর ফাইলটি অলৌকিকভাবে মুহূর্তেই জমা নিয়ে নেওয়া হয়। পঞ্চম তলায় এক নারী অভিযোগ করেন, ভাইয়ের পাসপোর্টের কাজে এসে কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত ব্যক্তিগত ও অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। তবে এই সব অভিযোগের বিপরীতে যাত্রাবাড়ী পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক অরূপ রতন চাকী দাবি করেন, তাঁর অফিস চত্বরে কোনো দালালের অস্তিত্ব নেই এবং বাইরের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা প্রশাসনের কাজ, তাঁদের নয়।
অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে উত্তরা পাসপোর্ট অফিসেও। গত ১৩ মে সকালে সেখানে প্রবেশ করতেই হালিম নামের এক দালাল সেবাপ্রত্যাশীদের সাথে আগ বাড়িয়ে খাতির জমানোর চেষ্টা করেন এবং কম খরচে সব নথিপত্র ম্যানেজ করে দেওয়ার টোপ দেন। পরিচয় গোপন করে এক সাধারণ আবেদনের জন্য কথা বললে তিনি সরাসরি আট হাজার টাকা দাবি করেন এবং কোনো লাইনে না দাঁড়িয়ে মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে ছবি ও আঙুলের ছাপের কাজ শেষ করে দেওয়ার গ্যারান্টি দেন। এমনকি নামের বানানে ভুল সংক্রান্ত জটিলতার কথা বলা হলে, ওই দালাল তাৎক্ষণিকভাবে পাসপোর্ট অফিসের ভেতরের এক কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে কথা বলিয়ে দিয়ে সততার প্রমাণ দেন। এরপর পেছনের সড়কের একটি কম্পিউটারের দোকানে নিয়ে গিয়ে সুকৌশলে টাকা দাবি করা হয়। সরাসরি আবেদন করতে আসা সিরাজুল ইসলাম নামের এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিদ্যুৎ বিলের মূল কপি না থাকা বা নানাবিধ ঠুনকো অজুহাতে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যা দালালের মাধ্যমে গেলে নিমেষেই বৈধ হয়ে যায়। রিয়াদ ইবনে জাবেদ নামের আরেক ভুক্তভোগীও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, পদে পদে হয়রানির শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে দালালদের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে পাসপোর্ট করাচ্ছেন।
রাজধানীর আফতাবনগর পাসপোর্ট অফিসের চিত্রও এর চেয়ে আলাদা কিছু নয়। ১৩ মে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের ভেতরেই ১০-১৫ জন দালাল প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং গ্রাহকদের সমস্যার ধরন বুঝে ভিন্ন ভিন্ন টাকার রেট নির্ধারণ করছেন। যেমন নামের বানান সংশোধনে তিন হাজার এবং ঠিকানা পরিবর্তনে আড়াই হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে, যেখানে বিদ্যুৎ বা পানির বিলের মূল কাগজের কোনো প্রয়োজনীয়তাই নেই। সামান্য অতিরিক্ত টাকা দিলেই সমস্ত কাগজের ঘাটতি তারা পূরণ করে দিচ্ছে। পাশের কম্পিউটারের দোকানে বসে চূড়ান্ত দরকষাকষি শেষে দালাল নিজেই গ্রাহকের ফাইল নিয়ে সরাসরি অফিসারদের কক্ষে ঢুকে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগী রুবেল জানান, তাঁর ভাইয়ের পাসপোর্টের বাবার নামের ভুল সংশোধনের জন্য কর্মকর্তাদের কাছে কয়েক দফা ঘুরেও কোনো লাভ হয়নি, পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে দালাল ধরে নতুন পাসপোর্ট করাতে হয়েছে। এই সার্বিক বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের বিষয়ে আফতাবনগর পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তাজ বিল্লাহ অবশ্য আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে যুগান্তরকে বলেন, তাঁদের পুরো কার্যালয় সিসিটিভি ক্যামেরার কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট কোনো অনিয়মের প্রমাণ পেলেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তবে বাস্তবের মাটিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিরসনে এই নজরদারির কোনো সুফল মিলছে না।

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
রাজধানীর বিভিন্ন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসগুলোতে শক্তিশালী দালালচক্রের বেপরোয়া দৌরাত্ম্য এবং সীমাহীন প্রভাবের কারণে সাধারণ এবং নিরীহ সেবাপ্রত্যাশী মানুষের ভোগান্তি এখন চরম ও উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। কোনো রকম মধ্যস্থতাকারী বা দালাল ছাড়া সাধারণ নাগরিকেরা যখন সম্পূর্ণ বৈধ উপায়ে নিজেদের প্রয়োজনীয় আবেদনপত্রটি সরাসরি কাউন্টারে জমা দিতে যান, তখন দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নানামুখী অযৌক্তিক প্রশ্ন, কঠোর জেরা এবং সামান্যতম ভুল বা তথ্যের অতি সূক্ষ্ম গরমিল পেলেই আবেদনপত্রটি সরাসরি বাতিল করে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যায় দালালদের মাধ্যমে গেলে। দালালের শরণাপন্ন হলে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার তীব্র শারীরিক ভোগান্তি ছাড়াই অত্যন্ত অলৌকিকভাবে মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ দেওয়া থেকে শুরু করে সমস্ত প্রক্রিয়া অনায়াসে সম্পন্ন হয়ে যায়। সচেতন মহলে প্রবল অভিযোগ রয়েছে যে, এই দালালচক্রের সদস্যদের সাথে পাসপোর্ট অফিসের একশ্রেণির অসাধু ও দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গভীর ও বিশেষ যোগসাজশ রয়েছে, যার ফলে শুধুমাত্র অবৈধ অর্থ বা অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে যেকোনো ধরনের বড় বড় সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান মিলছে। যদিও যথারীতি পাসপোর্ট অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চত্বরে দালালদের এমন প্রকাশ্য উপস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের হয়রানির সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে দাবি করছেন যে, তাদের দাপ্তরিক কার্যালয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতিকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেওয়া হয় না।
সম্প্রতি গত ১২ মে বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী পাসপোর্ট অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মূল প্রবেশদ্বারের দুই পাশে বেশ কয়েকজন যুবক ওত পেতে দাঁড়িয়ে আছেন। কোনো সাধারণ মানুষ ভেতরে প্রবেশ করতে গেলেই তারা পেছন থেকে কাজের ধরন জানতে চেয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এমনকি উত্তরের অপেক্ষা না করেই রীতিমতো পাল্লা দিয়ে সেবাপ্রত্যাশীদের সাথে অফিসের ভেতরে ঢুকে যান। এই যুবকদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে অফিসের কর্মকর্তারা এক অদ্ভুত অজুহাত দিয়ে দাবি করেন যে, এরা কেউ দালাল নন, বরং আশপাশের বিভিন্ন কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকানের কর্মী। তারা মূলত পাসপোর্টের ফরম পূরণসহ ছোটখাটো টেকনিক্যাল কাজের বিনিময়ে সামান্য কিছু পারিশ্রমিক নেন। তবে সেখানে আসা সাধারণ মানুষের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভুক্তভোগীদের মতে, যাত্রাবাড়ী পাসপোর্ট অফিসে ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। ফরম জমা দেওয়ার লাইন থেকে শুরু করে ছবি তোলা এবং পাসপোর্ট নেওয়ার প্রতিটি ধাপে রয়েছে সীমাহীন সিরিয়াল। কিন্তু এই সাধারণ সমস্যাগুলোই নিমিষে হাওয়া হয়ে যায় যদি কেউ আশপাশের কম্পিউটার দোকানের দালালদের কাছে যান। সেখানে রীতিমতো এক ছাদের নিচে সব মুশকিল আসান বা তাৎক্ষণিক সেবা মেলে। সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা দিলে যেকোনো ছোটখাটো সমস্যার সমাধান মেলে। এমনকি বয়স পরিবর্তন বা জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনের মতো বড় ধরনের ভুলের ক্ষেত্রে এই চক্রটি পঞ্চাশ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। শ্যামপুরের এক ভুক্তভোগী বাসিন্দা জানান, সরাসরি লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যর্থ হয়ে অফিসের গেটেই এক দালালকে দুই হাজার টাকা দেওয়ার পর তাঁর ফাইলটি অলৌকিকভাবে মুহূর্তেই জমা নিয়ে নেওয়া হয়। পঞ্চম তলায় এক নারী অভিযোগ করেন, ভাইয়ের পাসপোর্টের কাজে এসে কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত ব্যক্তিগত ও অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। তবে এই সব অভিযোগের বিপরীতে যাত্রাবাড়ী পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক অরূপ রতন চাকী দাবি করেন, তাঁর অফিস চত্বরে কোনো দালালের অস্তিত্ব নেই এবং বাইরের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা প্রশাসনের কাজ, তাঁদের নয়।
অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে উত্তরা পাসপোর্ট অফিসেও। গত ১৩ মে সকালে সেখানে প্রবেশ করতেই হালিম নামের এক দালাল সেবাপ্রত্যাশীদের সাথে আগ বাড়িয়ে খাতির জমানোর চেষ্টা করেন এবং কম খরচে সব নথিপত্র ম্যানেজ করে দেওয়ার টোপ দেন। পরিচয় গোপন করে এক সাধারণ আবেদনের জন্য কথা বললে তিনি সরাসরি আট হাজার টাকা দাবি করেন এবং কোনো লাইনে না দাঁড়িয়ে মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে ছবি ও আঙুলের ছাপের কাজ শেষ করে দেওয়ার গ্যারান্টি দেন। এমনকি নামের বানানে ভুল সংক্রান্ত জটিলতার কথা বলা হলে, ওই দালাল তাৎক্ষণিকভাবে পাসপোর্ট অফিসের ভেতরের এক কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে কথা বলিয়ে দিয়ে সততার প্রমাণ দেন। এরপর পেছনের সড়কের একটি কম্পিউটারের দোকানে নিয়ে গিয়ে সুকৌশলে টাকা দাবি করা হয়। সরাসরি আবেদন করতে আসা সিরাজুল ইসলাম নামের এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিদ্যুৎ বিলের মূল কপি না থাকা বা নানাবিধ ঠুনকো অজুহাতে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যা দালালের মাধ্যমে গেলে নিমেষেই বৈধ হয়ে যায়। রিয়াদ ইবনে জাবেদ নামের আরেক ভুক্তভোগীও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, পদে পদে হয়রানির শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে দালালদের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে পাসপোর্ট করাচ্ছেন।
রাজধানীর আফতাবনগর পাসপোর্ট অফিসের চিত্রও এর চেয়ে আলাদা কিছু নয়। ১৩ মে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের ভেতরেই ১০-১৫ জন দালাল প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং গ্রাহকদের সমস্যার ধরন বুঝে ভিন্ন ভিন্ন টাকার রেট নির্ধারণ করছেন। যেমন নামের বানান সংশোধনে তিন হাজার এবং ঠিকানা পরিবর্তনে আড়াই হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে, যেখানে বিদ্যুৎ বা পানির বিলের মূল কাগজের কোনো প্রয়োজনীয়তাই নেই। সামান্য অতিরিক্ত টাকা দিলেই সমস্ত কাগজের ঘাটতি তারা পূরণ করে দিচ্ছে। পাশের কম্পিউটারের দোকানে বসে চূড়ান্ত দরকষাকষি শেষে দালাল নিজেই গ্রাহকের ফাইল নিয়ে সরাসরি অফিসারদের কক্ষে ঢুকে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগী রুবেল জানান, তাঁর ভাইয়ের পাসপোর্টের বাবার নামের ভুল সংশোধনের জন্য কর্মকর্তাদের কাছে কয়েক দফা ঘুরেও কোনো লাভ হয়নি, পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে দালাল ধরে নতুন পাসপোর্ট করাতে হয়েছে। এই সার্বিক বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের বিষয়ে আফতাবনগর পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তাজ বিল্লাহ অবশ্য আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে যুগান্তরকে বলেন, তাঁদের পুরো কার্যালয় সিসিটিভি ক্যামেরার কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট কোনো অনিয়মের প্রমাণ পেলেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তবে বাস্তবের মাটিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিরসনে এই নজরদারির কোনো সুফল মিলছে না।

আপনার মতামত লিখুন