আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও চরম সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে বলে এক বিস্ফোরক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি বিশ্লেষক ও দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি। সাম্প্রতিক এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করেছেন যে, আগামী মাত্র এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক তৎপরতা বা যুদ্ধ নতুন করে শুরু করে দিতে পারে। এই মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে এবং বিশ্বনেতাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
অধ্যাপক এলমাসরির গভীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, ট্রাম্পের বর্তমান সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি বড় প্রভাব রয়েছে। এর পাশাপাশি ট্রাম্প নিজের প্রশাসনের ভেতরে থাকা বেশ কিছু উগ্রপন্থী ও যুদ্ধবাজ কর্মকর্তার দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হচ্ছেন। এই স্বার্থান্বেষী ও আগ্রাসী গোষ্ঠীটি ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ক্রমাগত উসকানি দিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আশঙ্কা দিন দিন বাস্তব রূপ নিচ্ছে।
এই সংকটের নেপথ্য কারণগুলো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প মূলত ইরান সরকারের কাছ থেকে একটি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ আশা করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন তেহরান সম্পূর্ণ নতজানু হয়ে তার সব শর্ত মেনে নিক। কিন্তু ইরানের শক্ত অবস্থানের কারণে ট্রাম্পের সেই আশা পূরণ হয়নি। এমনকি তেহরানের সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে চলমান আলোচনাগুলোও মার্কিন প্রেসিডেন্টের মনের মতো করে এগোয়নি, যা তাকে চরমভাবে হতাশ করেছে। ট্রাম্পের এই হতাশার পারদ আরও উসকে দিয়েছে সাম্প্রতিক চীন সফর। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্মেলনে ট্রাম্পের যে বিশাল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উচ্চাশা ছিল, সেখান থেকেও তিনি আশানুরূপ কোনো সাফল্য পাননি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই একের পর এক রাজনৈতিক ব্যর্থতা এবং নিজের অহমে আঘাত লাগার কারণেই ট্রাম্প এখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে একটি বিকল্প পথ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
অধ্যাপক এলমাসরি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক—উভয় দিক থেকেই এই যুদ্ধ আমেরিকার জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না, বরং এটি হবে দেশটির জন্য একটি বাস্তব বিপর্যয়। বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার বাজারে নতুন করে আরেকটি যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে আরও পঙ্গু করে দিতে পারে। এই জটিল পরিস্থিতিতে যেকোনো বিচক্ষণ শাসকের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হতো যুদ্ধ পরিস্থিতি পরিহার করা এবং শান্তির পথে হাঁটা। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে এখন আর পিছু হটা বা যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, এই মুহূর্তে যদি তিনি হঠাৎ করে পিছু হটেন, তবে মার্কিন জনগণের সামনে নিজের বীরত্ব জাহির করার মতো কোনো জোরালো যুক্তি বা সাফল্য তার হাতে থাকবে না। কোনো প্রকার ‘বিজয় ঘোষণা’ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে যাওয়া ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে চরম সংকটে ফেলবে। আর ঠিক এই কারণেই নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তিনি এক চরম আত্মঘাতী যুদ্ধের দিকে পা বাড়াচ্ছেন।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা।

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও চরম সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে বলে এক বিস্ফোরক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি বিশ্লেষক ও দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি। সাম্প্রতিক এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করেছেন যে, আগামী মাত্র এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক তৎপরতা বা যুদ্ধ নতুন করে শুরু করে দিতে পারে। এই মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে এবং বিশ্বনেতাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
অধ্যাপক এলমাসরির গভীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, ট্রাম্পের বর্তমান সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি বড় প্রভাব রয়েছে। এর পাশাপাশি ট্রাম্প নিজের প্রশাসনের ভেতরে থাকা বেশ কিছু উগ্রপন্থী ও যুদ্ধবাজ কর্মকর্তার দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হচ্ছেন। এই স্বার্থান্বেষী ও আগ্রাসী গোষ্ঠীটি ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ক্রমাগত উসকানি দিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আশঙ্কা দিন দিন বাস্তব রূপ নিচ্ছে।
এই সংকটের নেপথ্য কারণগুলো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প মূলত ইরান সরকারের কাছ থেকে একটি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ আশা করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন তেহরান সম্পূর্ণ নতজানু হয়ে তার সব শর্ত মেনে নিক। কিন্তু ইরানের শক্ত অবস্থানের কারণে ট্রাম্পের সেই আশা পূরণ হয়নি। এমনকি তেহরানের সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে চলমান আলোচনাগুলোও মার্কিন প্রেসিডেন্টের মনের মতো করে এগোয়নি, যা তাকে চরমভাবে হতাশ করেছে। ট্রাম্পের এই হতাশার পারদ আরও উসকে দিয়েছে সাম্প্রতিক চীন সফর। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্মেলনে ট্রাম্পের যে বিশাল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উচ্চাশা ছিল, সেখান থেকেও তিনি আশানুরূপ কোনো সাফল্য পাননি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই একের পর এক রাজনৈতিক ব্যর্থতা এবং নিজের অহমে আঘাত লাগার কারণেই ট্রাম্প এখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে একটি বিকল্প পথ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
অধ্যাপক এলমাসরি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক—উভয় দিক থেকেই এই যুদ্ধ আমেরিকার জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না, বরং এটি হবে দেশটির জন্য একটি বাস্তব বিপর্যয়। বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার বাজারে নতুন করে আরেকটি যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে আরও পঙ্গু করে দিতে পারে। এই জটিল পরিস্থিতিতে যেকোনো বিচক্ষণ শাসকের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হতো যুদ্ধ পরিস্থিতি পরিহার করা এবং শান্তির পথে হাঁটা। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে এখন আর পিছু হটা বা যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, এই মুহূর্তে যদি তিনি হঠাৎ করে পিছু হটেন, তবে মার্কিন জনগণের সামনে নিজের বীরত্ব জাহির করার মতো কোনো জোরালো যুক্তি বা সাফল্য তার হাতে থাকবে না। কোনো প্রকার ‘বিজয় ঘোষণা’ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে যাওয়া ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে চরম সংকটে ফেলবে। আর ঠিক এই কারণেই নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তিনি এক চরম আত্মঘাতী যুদ্ধের দিকে পা বাড়াচ্ছেন।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা।

আপনার মতামত লিখুন