দিকপাল

এআই-নির্মিত ভুয়া ভিডিও ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে ইউটিউব


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ | ১২:০৫ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

এআই-নির্মিত ভুয়া ভিডিও ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে ইউটিউব


বর্তমান প্রযুক্তির যুগে আসল ভিডিও আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি নকল ভিডিওর মধ্যে পার্থক্য খুঁজে বের করা দিন দিন অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে কারো অনুমতি ছাড়া তার চেহারা বা অবয়ব নকল করে তৈরি করা বিভ্রান্তিকর ভিডিও বা ডিপফেইক প্রতিনিয়ত বড় বিপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই মারাত্মক জালিয়াতি ঠেকাতে এবার বিশ্বজুড়ে এক বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছে জনপ্রিয় ভিডিও দেখার প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। তারা আঠারো বছর বা তার বেশি বয়সী সমস্ত কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য একটি বিশেষ এআই প্রযুক্তি বা টুল চালু করেছে। প্রযুক্তি বিষয়ক নামী সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে। ইউটিউব তাদের কমিউনিটি পাতায় এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো অননুমোদিত এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট সহজে সরিয়ে ফেলার সুযোগ দিয়ে প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এই নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে এখন যেকোনো সাধারণ মানুষ বা কনটেন্ট নির্মাতা সহজেই পরীক্ষা করে দেখতে পারবেন যে, তাদের অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ তাদের চেহারা ব্যবহার করে কোনো ভিডিও তৈরি করেছে কি না। যদি এমন কোনো ভিডিও ধরা পড়ে, তবে ব্যবহারকারী খুব দ্রুত সেটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে ফেলার জন্য সরাসরি ইউটিউব কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারবেন। মজার ব্যাপার হলো, কারিগরি দিক থেকে এই প্রযুক্তিটি মূলত পেশাদার কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য তৈরি করা হলেও, ইউটিউবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এটি সাধারণ নাগরিকরাও ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোনো ব্যবহারকারী ইউটিউবে এক দশক ধরে ভিডিও তৈরি করছেন নাকি আজকেই প্রথম যুক্ত হয়েছেন— সেটি মোটেও বিবেচ্য নয়। সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষ এখানে সমান অধিকার পাবেন। এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ যেমন হঠাৎ করে কোনো ক্ষতিকর বা বিভ্রান্তিকর এআই ভিডিওতে নিজের চেহারা ব্যবহারের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাবেন, তেমনি পেশাদার নির্মাতারাও সুরক্ষিত থাকবেন। অনেক সময় দেখা যায়, বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ড বা কোম্পানি কোনো নির্মাতার অনুমতি ছাড়াই তাদের অবয়ব ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্য বা সেবার ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করে। নতুন এই প্রযুক্তি আসার ফলে এই ধরণের অনৈতিক বাণিজ্য এক লহমায় বন্ধ করা সম্ভব হবে।

ইউটিউব মূলত বিগত বছরগুলোতে ধাপে ধাপে এই প্রযুক্তিটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার কাজ করেছে। শুরুতে এটি কেবল নির্দিষ্ট আয়ের আওতায় থাকা বড় নির্মাতাদের জন্য আনা হয়েছিল, যারা একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক গ্রাহক এবং ভিডিও দেখার সময়সীমা পার করেছেন। এরপরের ধাপে সাংবাদিক এবং রাজনীতিবিদের সুরক্ষায় এটি ব্যবহার করা হয়। আর বর্তমান সময়ে এসে এটি সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো। এই সুবিধাটি উপভোগ করতে হলে ব্যবহারকারীকে তার কম্পিউটার থেকে ইউটিউবের নিজস্ব স্টুডিও অপশনে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে কন্টেন্ট ডিটেকশন বা কনটেন্ট শনাক্তকরণ অংশের অধীনে থাকা লাইকনেস বা সাদৃশ্য নামের একটি অপশনে যেতে হবে। এরপর মোবাইল ফোন দিয়ে একটি বিশেষ কোড স্ক্যান করে ব্যবহারকারীকে নিজের সরকারি পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে এবং একটি সেলফি ভিডিওর মাধ্যমে নিজের আসল পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ইউটিউবের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা পুরো প্ল্যাটফর্মে আপলোড হওয়া কোটি কোটি ভিডিও স্ক্যান বা অনুসন্ধান করে দেখবে যে কোথাও ব্যবহারকারীর চেহারার মিল আছে কি না। যদি কোনো ভিডিওতে নিখুঁত বা আংশিক মিল খুঁজে পাওয়া যায়, তবে তা সরাসরি ব্যবহারকারীকে স্ক্রিনে দেখিয়ে দেওয়া হবে। এরপর ব্যবহারকারী চাইলে সেই ভিডিওটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে তা মুছে ফেলার অনুরোধ করতে পারবেন এবং সেখানে তার চেহারা কীভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে, সেই তথ্যও বিশদভাবে উল্লেখ করতে পারবেন। তবে ইউটিউব জানিয়েছে, এই প্রযুক্তিটি নিখুঁতভাবে কেবল মানুষের অবয়ব বা চেহারা শনাক্ত করতে পারে। কোনো ভিডিওতে যদি কেবল কণ্ঠস্বর নকল করা হয়, তবে এই টুলটি একা সেটি ধরতে পারবে না; যদিও ভিডিও পর্যালোচনার সময় ব্যবহারকারী তার কণ্ঠস্বর নকলের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে আলাদাভাবে অবহিত করার সুযোগ পাবেন।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ২০ মে ২০২৬


এআই-নির্মিত ভুয়া ভিডিও ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে ইউটিউব

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image


বর্তমান প্রযুক্তির যুগে আসল ভিডিও আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি নকল ভিডিওর মধ্যে পার্থক্য খুঁজে বের করা দিন দিন অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে কারো অনুমতি ছাড়া তার চেহারা বা অবয়ব নকল করে তৈরি করা বিভ্রান্তিকর ভিডিও বা ডিপফেইক প্রতিনিয়ত বড় বিপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই মারাত্মক জালিয়াতি ঠেকাতে এবার বিশ্বজুড়ে এক বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছে জনপ্রিয় ভিডিও দেখার প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। তারা আঠারো বছর বা তার বেশি বয়সী সমস্ত কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য একটি বিশেষ এআই প্রযুক্তি বা টুল চালু করেছে। প্রযুক্তি বিষয়ক নামী সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে। ইউটিউব তাদের কমিউনিটি পাতায় এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো অননুমোদিত এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট সহজে সরিয়ে ফেলার সুযোগ দিয়ে প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এই নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে এখন যেকোনো সাধারণ মানুষ বা কনটেন্ট নির্মাতা সহজেই পরীক্ষা করে দেখতে পারবেন যে, তাদের অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ তাদের চেহারা ব্যবহার করে কোনো ভিডিও তৈরি করেছে কি না। যদি এমন কোনো ভিডিও ধরা পড়ে, তবে ব্যবহারকারী খুব দ্রুত সেটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে ফেলার জন্য সরাসরি ইউটিউব কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারবেন। মজার ব্যাপার হলো, কারিগরি দিক থেকে এই প্রযুক্তিটি মূলত পেশাদার কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য তৈরি করা হলেও, ইউটিউবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এটি সাধারণ নাগরিকরাও ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোনো ব্যবহারকারী ইউটিউবে এক দশক ধরে ভিডিও তৈরি করছেন নাকি আজকেই প্রথম যুক্ত হয়েছেন— সেটি মোটেও বিবেচ্য নয়। সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষ এখানে সমান অধিকার পাবেন। এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ যেমন হঠাৎ করে কোনো ক্ষতিকর বা বিভ্রান্তিকর এআই ভিডিওতে নিজের চেহারা ব্যবহারের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাবেন, তেমনি পেশাদার নির্মাতারাও সুরক্ষিত থাকবেন। অনেক সময় দেখা যায়, বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ড বা কোম্পানি কোনো নির্মাতার অনুমতি ছাড়াই তাদের অবয়ব ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্য বা সেবার ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করে। নতুন এই প্রযুক্তি আসার ফলে এই ধরণের অনৈতিক বাণিজ্য এক লহমায় বন্ধ করা সম্ভব হবে।

ইউটিউব মূলত বিগত বছরগুলোতে ধাপে ধাপে এই প্রযুক্তিটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার কাজ করেছে। শুরুতে এটি কেবল নির্দিষ্ট আয়ের আওতায় থাকা বড় নির্মাতাদের জন্য আনা হয়েছিল, যারা একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক গ্রাহক এবং ভিডিও দেখার সময়সীমা পার করেছেন। এরপরের ধাপে সাংবাদিক এবং রাজনীতিবিদের সুরক্ষায় এটি ব্যবহার করা হয়। আর বর্তমান সময়ে এসে এটি সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো। এই সুবিধাটি উপভোগ করতে হলে ব্যবহারকারীকে তার কম্পিউটার থেকে ইউটিউবের নিজস্ব স্টুডিও অপশনে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে কন্টেন্ট ডিটেকশন বা কনটেন্ট শনাক্তকরণ অংশের অধীনে থাকা লাইকনেস বা সাদৃশ্য নামের একটি অপশনে যেতে হবে। এরপর মোবাইল ফোন দিয়ে একটি বিশেষ কোড স্ক্যান করে ব্যবহারকারীকে নিজের সরকারি পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে এবং একটি সেলফি ভিডিওর মাধ্যমে নিজের আসল পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ইউটিউবের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা পুরো প্ল্যাটফর্মে আপলোড হওয়া কোটি কোটি ভিডিও স্ক্যান বা অনুসন্ধান করে দেখবে যে কোথাও ব্যবহারকারীর চেহারার মিল আছে কি না। যদি কোনো ভিডিওতে নিখুঁত বা আংশিক মিল খুঁজে পাওয়া যায়, তবে তা সরাসরি ব্যবহারকারীকে স্ক্রিনে দেখিয়ে দেওয়া হবে। এরপর ব্যবহারকারী চাইলে সেই ভিডিওটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে তা মুছে ফেলার অনুরোধ করতে পারবেন এবং সেখানে তার চেহারা কীভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে, সেই তথ্যও বিশদভাবে উল্লেখ করতে পারবেন। তবে ইউটিউব জানিয়েছে, এই প্রযুক্তিটি নিখুঁতভাবে কেবল মানুষের অবয়ব বা চেহারা শনাক্ত করতে পারে। কোনো ভিডিওতে যদি কেবল কণ্ঠস্বর নকল করা হয়, তবে এই টুলটি একা সেটি ধরতে পারবে না; যদিও ভিডিও পর্যালোচনার সময় ব্যবহারকারী তার কণ্ঠস্বর নকলের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে আলাদাভাবে অবহিত করার সুযোগ পাবেন।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল