দিকপাল

হাম ও হামের উপসর্গে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু: জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৩৯ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

হাম ও হামের উপসর্গে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু: জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ

সারাদেশে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতির অবনতি এতটাই যে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সবশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। মূলত শনিবার (২৫ এপ্রিল) অধিদপ্তর থেকে দেশের বর্তমান এই সংক্রমণ পরিস্থিতি ও হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬০৭ জনে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এর মধ্যে ৮ হাজার ৪৬০ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৪২ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ২০৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

সংক্রমণের বিস্তার এতটাই দ্রুত ঘটছে যে, গত একদিনেই সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ৫৮ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যাদের একটি বড় অংশই শিশু। অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৪৭৫ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭ হাজার ৮১ জন।

মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত আইসোলেশন বা আলাদা রাখার ব্যবস্থার অভাবেই সংক্রমণ দ্রুত সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক হাসপাতালে শয্যা সংকট থাকায় আক্রান্ত শিশুদের সাধারণ রোগীদের খুব কাছাকাছি রাখা হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, দ্রুত আইসোলেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারলে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এতটাই বেশি যে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ এবং সময়মতো টিকা না নেওয়া কিংবা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসার কারণেই এই প্রাদুর্ভাব দীর্ঘায়িত হচ্ছে। শিশুদের শরীরে জ্বর কিংবা লালচে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সংক্রমণের বিস্তার রোধ করতে আক্রান্ত শিশুকে সুস্থ ব্যক্তিদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখার জন্য বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


হাম ও হামের উপসর্গে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু: জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সারাদেশে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতির অবনতি এতটাই যে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সবশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। মূলত শনিবার (২৫ এপ্রিল) অধিদপ্তর থেকে দেশের বর্তমান এই সংক্রমণ পরিস্থিতি ও হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬০৭ জনে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এর মধ্যে ৮ হাজার ৪৬০ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৪২ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ২০৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

সংক্রমণের বিস্তার এতটাই দ্রুত ঘটছে যে, গত একদিনেই সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ৫৮ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যাদের একটি বড় অংশই শিশু। অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৪৭৫ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭ হাজার ৮১ জন।

মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত আইসোলেশন বা আলাদা রাখার ব্যবস্থার অভাবেই সংক্রমণ দ্রুত সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক হাসপাতালে শয্যা সংকট থাকায় আক্রান্ত শিশুদের সাধারণ রোগীদের খুব কাছাকাছি রাখা হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, দ্রুত আইসোলেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারলে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এতটাই বেশি যে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ এবং সময়মতো টিকা না নেওয়া কিংবা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসার কারণেই এই প্রাদুর্ভাব দীর্ঘায়িত হচ্ছে। শিশুদের শরীরে জ্বর কিংবা লালচে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সংক্রমণের বিস্তার রোধ করতে আক্রান্ত শিশুকে সুস্থ ব্যক্তিদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখার জন্য বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন চিকিৎসকরা।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল