দিকপাল

কোলম্যান ইস্যুতে সরকারের আগ্রহ, তবু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ধোঁয়াশা


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ | ১০:১৯ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

কোলম্যান ইস্যুতে সরকারের আগ্রহ, তবু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ধোঁয়াশা

বাংলাদেশ ফুটবল জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়ার প্রতিযোগিতায় এই মুহূর্তে অন্য সবার চেয়ে বেশখানিকটা এগিয়ে রয়েছেন ওয়েলসের খ্যাতনামা কোচ ক্রিস কোলম্যান। দেশের ফুটবলের স্বার্থে এবার এই হাইপ্রোফাইল কোচকে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছে সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও।

রোববার জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বিষয়ে কথা বলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। নতুন কোচ নিয়োগের অগ্রগতি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক কোচের মধ্যে ক্রিস কোলম্যানকে নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। এই কোচকে বাংলাদেশে আনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার সম্মতি প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, কোলম্যানকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বা বাফুফে সরকারের কাছে বিশেষ সহযোগিতা চেয়েছিল এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও তাতে অত্যন্ত ইতিবাচক ও দ্রুত সাড়া দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, ফুটবলপ্রেমীরা ইতোমধ্যে কোলম্যানের নাম শুনেছেন, পাশাপাশি তালিকায় বার্ন্ড স্টর্কসহ আরও বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ কোচের নাম রয়েছে। তবে বাফুফে এবং মন্ত্রণালয় মানসিকভাবে যাঁর প্রতি সবচেয়ে বেশি আস্থা রেখেছে, সেই কোলম্যানের বিষয়েই চূড়ান্ত আলোচনা চলছে।

অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্মতি মিললেও ক্রিস কোলম্যানকে শেষ পর্যন্ত ডাগআউটে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে এখনো পুরোপুরি সংশয় কেটে যায়নি। এই বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য হলো, বাফুফে সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে যতটুকু জানা গেছে, কোলম্যানের এজেন্টের বা প্রতিনিধির সঙ্গে কিছু দাপ্তরিক ও আর্থিক বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত বোঝাপড়া বা চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। সেই জটিলতার অবসান ঘটলেই কেবল নিশ্চিত হওয়া যাবে যে কোলম্যান বাংলাদেশের দায়িত্ব নিচ্ছেন কি না। তবে তিনি ফুটবলপ্রেমীদের আশ্বস্ত করে জানান, কোনো কারণে যদি কোলম্যানকে পাওয়া না-ও যায়, তাহলেও বাফুফে এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে শক্তিশালী বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি রয়েছে। ইঙ্গিত অনুযায়ী, কোলম্যানের চুক্তি ভেস্তে গেলে তালিকায় দ্বিতীয় পছন্দে থাকা বার্ন্ড স্টর্ককে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। যদিও দুই পক্ষেরই মূল লক্ষ্য ও প্রথম পছন্দ ক্রিস কোলম্যানকে বাংলাদেশের ফুটবলে নিয়ে আসা। প্রতিমন্ত্রীর মতে, দেশের মানুষের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা এবং ফুটবল সংশ্লিষ্ট সবার আবেগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই কোলম্যানকে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। নতুন কোচের নাম আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সময় জানতে চাওয়া হলে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এজেন্টের সঙ্গে চলমান আলোচনা শেষ হওয়া মাত্রই দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাফুফে এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে।

ক্রিস কোলম্যান ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার উয়েফা প্রো লাইসেন্সধারী একজন অত্যন্ত উঁচুমাপের কোচ এবং ফুটবলে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ রাজপরিবারের সম্মানজনক ওবিই খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় তিনি ওয়েলস জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সাথে পালন করেছেন। তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় এবং ঐতিহাসিক সাফল্য ছিল গ্যারেথ বেলের মতো বিশ্বমানের তারকা সমৃদ্ধ ওয়েলস দলকে ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে নিয়ে যাওয়া। দীর্ঘ ৫৮ বছরের খরা কাটিয়ে সেটিই ছিল ওয়েলসের কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের মূল পর্বে খেলা এবং তাঁর অধীনেই দলটি বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ের অষ্টম স্থানে আরোহণ করেছিল। মাঠে খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও কৌশল সাজাতে কোলম্যান অত্যন্ত পটু, বিশেষ করে ৩-৫-২ কিংবা ৪-৩-৩ ছকে রক্ষণভাগ মজবুত রেখে দ্রুতগতির আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলাতেই তিনি বেশি পছন্দ করেন। তবে কৌশলগত দক্ষতার চেয়েও তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ হলো খেলোয়াড়দের সাথে চমৎকার মনস্তাত্ত্বিক বোঝাপড়া তৈরি করা। সাবেক ওয়েলস কোচ গ্যারি স্পিডের আকস্মিক মৃত্যুর পর চরম শোকগ্রস্ত ও ভেঙে পড়া দলকে এক সুতোয় গেঁথে ‘একত্রে আমরা শক্তিশালী’ নামের একটি যুগান্তকারী স্লোগান ও পরিচয় তৈরি করেছিলেন তিনি। ক্লাব ফুটবলে কভেন্ট্রি কিংবা সান্ডারল্যান্ডের মতো দলের দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে কিছুটা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলেও, জাতীয় দলের মতো ফেডারেশন নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক পরিবেশে কাজ করার ক্ষেত্রে তিনি সবসময়ই বিশ্বসেরা ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬


কোলম্যান ইস্যুতে সরকারের আগ্রহ, তবু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ধোঁয়াশা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ফুটবল জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়ার প্রতিযোগিতায় এই মুহূর্তে অন্য সবার চেয়ে বেশখানিকটা এগিয়ে রয়েছেন ওয়েলসের খ্যাতনামা কোচ ক্রিস কোলম্যান। দেশের ফুটবলের স্বার্থে এবার এই হাইপ্রোফাইল কোচকে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছে সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও।

রোববার জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বিষয়ে কথা বলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। নতুন কোচ নিয়োগের অগ্রগতি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক কোচের মধ্যে ক্রিস কোলম্যানকে নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। এই কোচকে বাংলাদেশে আনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার সম্মতি প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, কোলম্যানকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বা বাফুফে সরকারের কাছে বিশেষ সহযোগিতা চেয়েছিল এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও তাতে অত্যন্ত ইতিবাচক ও দ্রুত সাড়া দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, ফুটবলপ্রেমীরা ইতোমধ্যে কোলম্যানের নাম শুনেছেন, পাশাপাশি তালিকায় বার্ন্ড স্টর্কসহ আরও বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ কোচের নাম রয়েছে। তবে বাফুফে এবং মন্ত্রণালয় মানসিকভাবে যাঁর প্রতি সবচেয়ে বেশি আস্থা রেখেছে, সেই কোলম্যানের বিষয়েই চূড়ান্ত আলোচনা চলছে।

অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্মতি মিললেও ক্রিস কোলম্যানকে শেষ পর্যন্ত ডাগআউটে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে এখনো পুরোপুরি সংশয় কেটে যায়নি। এই বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য হলো, বাফুফে সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে যতটুকু জানা গেছে, কোলম্যানের এজেন্টের বা প্রতিনিধির সঙ্গে কিছু দাপ্তরিক ও আর্থিক বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত বোঝাপড়া বা চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। সেই জটিলতার অবসান ঘটলেই কেবল নিশ্চিত হওয়া যাবে যে কোলম্যান বাংলাদেশের দায়িত্ব নিচ্ছেন কি না। তবে তিনি ফুটবলপ্রেমীদের আশ্বস্ত করে জানান, কোনো কারণে যদি কোলম্যানকে পাওয়া না-ও যায়, তাহলেও বাফুফে এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে শক্তিশালী বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি রয়েছে। ইঙ্গিত অনুযায়ী, কোলম্যানের চুক্তি ভেস্তে গেলে তালিকায় দ্বিতীয় পছন্দে থাকা বার্ন্ড স্টর্ককে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। যদিও দুই পক্ষেরই মূল লক্ষ্য ও প্রথম পছন্দ ক্রিস কোলম্যানকে বাংলাদেশের ফুটবলে নিয়ে আসা। প্রতিমন্ত্রীর মতে, দেশের মানুষের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা এবং ফুটবল সংশ্লিষ্ট সবার আবেগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই কোলম্যানকে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। নতুন কোচের নাম আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সময় জানতে চাওয়া হলে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এজেন্টের সঙ্গে চলমান আলোচনা শেষ হওয়া মাত্রই দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাফুফে এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে।

ক্রিস কোলম্যান ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার উয়েফা প্রো লাইসেন্সধারী একজন অত্যন্ত উঁচুমাপের কোচ এবং ফুটবলে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ রাজপরিবারের সম্মানজনক ওবিই খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় তিনি ওয়েলস জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সাথে পালন করেছেন। তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় এবং ঐতিহাসিক সাফল্য ছিল গ্যারেথ বেলের মতো বিশ্বমানের তারকা সমৃদ্ধ ওয়েলস দলকে ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে নিয়ে যাওয়া। দীর্ঘ ৫৮ বছরের খরা কাটিয়ে সেটিই ছিল ওয়েলসের কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের মূল পর্বে খেলা এবং তাঁর অধীনেই দলটি বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ের অষ্টম স্থানে আরোহণ করেছিল। মাঠে খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও কৌশল সাজাতে কোলম্যান অত্যন্ত পটু, বিশেষ করে ৩-৫-২ কিংবা ৪-৩-৩ ছকে রক্ষণভাগ মজবুত রেখে দ্রুতগতির আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলাতেই তিনি বেশি পছন্দ করেন। তবে কৌশলগত দক্ষতার চেয়েও তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ হলো খেলোয়াড়দের সাথে চমৎকার মনস্তাত্ত্বিক বোঝাপড়া তৈরি করা। সাবেক ওয়েলস কোচ গ্যারি স্পিডের আকস্মিক মৃত্যুর পর চরম শোকগ্রস্ত ও ভেঙে পড়া দলকে এক সুতোয় গেঁথে ‘একত্রে আমরা শক্তিশালী’ নামের একটি যুগান্তকারী স্লোগান ও পরিচয় তৈরি করেছিলেন তিনি। ক্লাব ফুটবলে কভেন্ট্রি কিংবা সান্ডারল্যান্ডের মতো দলের দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে কিছুটা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলেও, জাতীয় দলের মতো ফেডারেশন নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক পরিবেশে কাজ করার ক্ষেত্রে তিনি সবসময়ই বিশ্বসেরা ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল