ইরান ও লেবানন অভিযানে পর্যাপ্ত সামরিক সহায়তা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন এবার মিত্র দেশগুলোকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার কঠোর পথে হাঁটছে। পেন্টাগনের এক অভ্যন্তরীণ ইমেইল ফাঁস হওয়ার পর জানা গেছে, উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট (ন্যাটো) থেকে স্পেনের সদস্যপদ বাতিল করার মতো নজিরবিহীন বিকল্পও বিবেচনা করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য নিশ্চিত করেছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরান যুদ্ধের সময় মার্কিন বাহিনীকে ঘাঁটি ব্যবহার, কৌশলগত অবস্থান এবং আকাশসীমা ব্যবহারে অনীহা দেখানো দেশগুলোর ওপর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে ওই ইমেইলে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এখন স্পেনকে সাময়িকভাবে ন্যাটো থেকে বহিষ্কার এবং যুক্তরাজ্যের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর লন্ডনের দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সমর্থন পুনর্বিবেচনার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া ‘অসহযোগী’ দেশগুলোকে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে ওয়াশিংটনের টেবিলে।
ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক আগ্রাসনের অন্যতম কঠোর সমালোচক স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই যুদ্ধে কোনো মার্কিন বা ইসরায়েলি বিমানকে স্পেনের আকাশসীমা বা ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এতে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে বলেন, স্পেন অত্যন্ত ভয়াবহ আচরণ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চায় না। পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলে উইলসন এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান পরিষ্কার—যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের জন্য সর্বস্ব দিলেও বিপদের সময় তারা পাশে ছিল না। পেন্টাগন এখন এমন বিকল্প নিশ্চিত করছে যাতে মার্কিন মিত্ররা আর শুধু ‘কাগজের বাঘ’ হয়ে না থাকে এবং নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর তেহরান জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেয়। বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হলে ট্রাম্প মিত্রদের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান, যা অধিকাংশ ন্যাটো সদস্য দেশ প্রত্যাখ্যান করে। এই ঘটনায় ট্রাম্প এতটাই বিরক্ত যে, ১ এপ্রিল রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রকেই ন্যাটো থেকে বের করে আনার ইঙ্গিত দেন। তবে ফাঁস হওয়া নথিতে এখনই যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো ছাড়ছে কিংবা ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে—এমন কোনো সরাসরি প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবুও, ওয়াশিংটনের এই মারমুখী অবস্থান এবং মিত্রদের ওপর শাস্তির খড়গ ন্যাটোর অস্তিত্বকে এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ইরান ও লেবানন অভিযানে পর্যাপ্ত সামরিক সহায়তা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন এবার মিত্র দেশগুলোকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার কঠোর পথে হাঁটছে। পেন্টাগনের এক অভ্যন্তরীণ ইমেইল ফাঁস হওয়ার পর জানা গেছে, উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট (ন্যাটো) থেকে স্পেনের সদস্যপদ বাতিল করার মতো নজিরবিহীন বিকল্পও বিবেচনা করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য নিশ্চিত করেছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরান যুদ্ধের সময় মার্কিন বাহিনীকে ঘাঁটি ব্যবহার, কৌশলগত অবস্থান এবং আকাশসীমা ব্যবহারে অনীহা দেখানো দেশগুলোর ওপর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে ওই ইমেইলে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এখন স্পেনকে সাময়িকভাবে ন্যাটো থেকে বহিষ্কার এবং যুক্তরাজ্যের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর লন্ডনের দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সমর্থন পুনর্বিবেচনার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া ‘অসহযোগী’ দেশগুলোকে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে ওয়াশিংটনের টেবিলে।
ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক আগ্রাসনের অন্যতম কঠোর সমালোচক স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই যুদ্ধে কোনো মার্কিন বা ইসরায়েলি বিমানকে স্পেনের আকাশসীমা বা ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এতে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে বলেন, স্পেন অত্যন্ত ভয়াবহ আচরণ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চায় না। পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলে উইলসন এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান পরিষ্কার—যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের জন্য সর্বস্ব দিলেও বিপদের সময় তারা পাশে ছিল না। পেন্টাগন এখন এমন বিকল্প নিশ্চিত করছে যাতে মার্কিন মিত্ররা আর শুধু ‘কাগজের বাঘ’ হয়ে না থাকে এবং নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর তেহরান জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেয়। বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হলে ট্রাম্প মিত্রদের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান, যা অধিকাংশ ন্যাটো সদস্য দেশ প্রত্যাখ্যান করে। এই ঘটনায় ট্রাম্প এতটাই বিরক্ত যে, ১ এপ্রিল রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রকেই ন্যাটো থেকে বের করে আনার ইঙ্গিত দেন। তবে ফাঁস হওয়া নথিতে এখনই যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো ছাড়ছে কিংবা ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে—এমন কোনো সরাসরি প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবুও, ওয়াশিংটনের এই মারমুখী অবস্থান এবং মিত্রদের ওপর শাস্তির খড়গ ন্যাটোর অস্তিত্বকে এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স

আপনার মতামত লিখুন