দিকপাল

মেট্রোর নিচে জলাবদ্ধতা, ড্রেন থাকলেও নামছে না পানি!


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ | ০৯:৫৪ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

মেট্রোর নিচে জলাবদ্ধতা, ড্রেন থাকলেও নামছে না পানি!

রাজধানী ঢাকায় এখন আর দিনের পর দিন টানা বর্ষণের প্রয়োজন পড়ে না। মাত্র এক থেকে দেড় ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতেই ডুবে যায় প্রধান সড়ক, অলিগলি পরিণত হয় খালে, আর নগরজীবন থমকে দাঁড়ায় হাঁটুপানির মধ্যে। কোথাও বাসের চাকা অর্ধেক ডুবে থাকে, কোথাও বিকল হয়ে পড়ে রিকশা। অফিস শেষে ঘরে ফেরা মানুষকে জুতা হাতে নিয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে পথ চলতে হয়। বছরের পর বছর ধরে চলা এই দুর্ভোগ যেন রাজধানীবাসীর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার দুপুরের ভারি বৃষ্টির পর রাজধানীর ভাটারা, নূরেরচালা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি, লালমাটিয়া, উত্তরা, বনশ্রীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার চিত্র দেখা গেছে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরও অনেক এলাকার পানি নামেনি। কোথাও কোথাও নিচতলার বাসাবাড়ি ও দোকানে পানি ঢোকার উপক্রম হয়। নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর একই চিত্র দেখা গেলেও কার্যকর কোনো সমাধান মিলছে না।

ভাটারা ও নূরেরচালার বাসিন্দাদের জন্য বর্ষাকাল এখন আতঙ্কের নাম। সামান্য বৃষ্টিতেই সোলমাইদ, ফরাজিটোলা, মমতাজ বাজার থেকে খন্দকার বাড়ির মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। অলিগলিতে হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা সৌরভ হোসাইন বলেন, বছরের প্রায় পুরো সময়জুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি আর নর্দমার কাজ চললেও বৃষ্টি নামলেই মানুষকে পানির মধ্যে চলাফেরা করতে হয়। তার অভিযোগ, উন্নয়নের নামে কাজ হলেও ভোগান্তি কমছে না।

এলাকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির পানি আর নর্দমার ময়লা মিশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে দোকান খুলে ব্যবসা চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে। সকালবেলার বৃষ্টি হলে দুপুর পর্যন্ত, আর বিকেলের বৃষ্টি হলে পুরো দিনই পানির নিচে থাকে সড়ক। ফলে ক্রেতা আসে না, ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যায়।

মিরপুর এলাকায় চিত্র আরও ভয়াবহ। কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, মিরপুর-১, পাইকপাড়া, বাংলা কলেজ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি—সবখানেই জমে আছে থইথই পানি। টানা দুই ঘণ্টারও কম সময়ের বৃষ্টিতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। পথচারীরা বলছেন, বৃষ্টি হলেই এখন আতঙ্ক শুরু হয়। পানি নামতে অনেক সময় লাগে, কখনো কখনো গভীর রাত পর্যন্ত জলাবদ্ধতা থেকে যায়।

কাজীপাড়ার বাসিন্দা আবু ইউসুফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহরের ওপরে ঝকঝকে মেট্রোরেল দাঁড়িয়ে থাকলেও নিচে মানুষের হাঁটতে হয় হাঁটুপানিতে। তার ভাষায়, “ড্রেন তো আছে, কিন্তু পানি যাওয়ার কোনো পথ নেই।” স্থানীয়দের অভিযোগ, নর্দমা ভরাট, অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ এবং পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে।

মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকায় দেখা যায়, ফুটপাত পর্যন্ত পানির নিচে ডুবে গেছে। বাস থেকে নামা যাত্রীদের কোমর উঁচু কাপড় গুটিয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে চলতে হয়েছে। দীর্ঘদিনের যাত্রী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই রাস্তায় চলাচল করছেন, কিন্তু প্রতি বর্ষাতেই একই দুর্ভোগ দেখতে হচ্ছে। তার প্রশ্ন, এত প্রকল্প আর উন্নয়ন কাজের পরও কেন জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

ধানমণ্ডি, সোবহানবাগ, রাজাবাজার ও লালমাটিয়া এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ভারি বৃষ্টির পর মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ ছোট খালের মতো হয়ে যায়। অনেক বাসের সিঁড়ি পর্যন্ত পানি উঠে যায়। যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নর্দমা ব্যবস্থাপনা দুর্বল হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

মোহাম্মদপুরের নতুন আবাসিক এলাকাগুলোতেও অবস্থা খুব একটা ভিন্ন নয়। চন্দ্রিমা আবাসন, বসিলা সিটি আবাসন, পশ্চিম ধানমণ্ডি আবাসন ও মেট্রো আবাসন এলাকায় বৃষ্টির পর রাস্তাজুড়ে কাদা আর পানি জমে যায়। স্থানীয়দের দাবি, বছরের পর বছর কর দিলেও এখনো সেখানে কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। অনেক এলাকায় সড়ক কেটে কাজ শুরু করলেও তা শেষ হয়নি, ফলে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

উত্তরার বিভিন্ন খাত ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ নর্দমার ঢাকনা ভাঙা অথবা খোলা অবস্থায় রয়েছে। কোথাও ময়লা জমে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে আছে, কোথাও ভেঙে গেছে পুরো নর্দমা। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উপচে উঠে আসছে সড়কে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিতভাবে নর্দমায় বর্জ্য ফেলা হলেও তা পরিষ্কার করার কার্যকর উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়।

নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান মনে করেন, শুধু পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তার মতে, রাজধানীর খাল, নালা ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনার শিকার। সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং এলাকাভিত্তিক বাস্তব মূল্যায়ন না থাকায় প্রতিবছর একই সংকট ফিরে আসে। তিনি বলেন, দুই সিটি করপোরেশনের আলাদা ব্যবস্থাপনার বদলে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে, যাতে নর্দমা ও খালে বর্জ্য ফেলা বন্ধ হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়নের বড় বড় প্রকল্পের পাশাপাশি রাজধানীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। তা না হলে সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যাওয়া এই নগরীতে নাগরিক দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


মেট্রোর নিচে জলাবদ্ধতা, ড্রেন থাকলেও নামছে না পানি!

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানী ঢাকায় এখন আর দিনের পর দিন টানা বর্ষণের প্রয়োজন পড়ে না। মাত্র এক থেকে দেড় ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতেই ডুবে যায় প্রধান সড়ক, অলিগলি পরিণত হয় খালে, আর নগরজীবন থমকে দাঁড়ায় হাঁটুপানির মধ্যে। কোথাও বাসের চাকা অর্ধেক ডুবে থাকে, কোথাও বিকল হয়ে পড়ে রিকশা। অফিস শেষে ঘরে ফেরা মানুষকে জুতা হাতে নিয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে পথ চলতে হয়। বছরের পর বছর ধরে চলা এই দুর্ভোগ যেন রাজধানীবাসীর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার দুপুরের ভারি বৃষ্টির পর রাজধানীর ভাটারা, নূরেরচালা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি, লালমাটিয়া, উত্তরা, বনশ্রীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার চিত্র দেখা গেছে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরও অনেক এলাকার পানি নামেনি। কোথাও কোথাও নিচতলার বাসাবাড়ি ও দোকানে পানি ঢোকার উপক্রম হয়। নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর একই চিত্র দেখা গেলেও কার্যকর কোনো সমাধান মিলছে না।

ভাটারা ও নূরেরচালার বাসিন্দাদের জন্য বর্ষাকাল এখন আতঙ্কের নাম। সামান্য বৃষ্টিতেই সোলমাইদ, ফরাজিটোলা, মমতাজ বাজার থেকে খন্দকার বাড়ির মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। অলিগলিতে হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা সৌরভ হোসাইন বলেন, বছরের প্রায় পুরো সময়জুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি আর নর্দমার কাজ চললেও বৃষ্টি নামলেই মানুষকে পানির মধ্যে চলাফেরা করতে হয়। তার অভিযোগ, উন্নয়নের নামে কাজ হলেও ভোগান্তি কমছে না।

এলাকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির পানি আর নর্দমার ময়লা মিশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে দোকান খুলে ব্যবসা চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে। সকালবেলার বৃষ্টি হলে দুপুর পর্যন্ত, আর বিকেলের বৃষ্টি হলে পুরো দিনই পানির নিচে থাকে সড়ক। ফলে ক্রেতা আসে না, ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যায়।

মিরপুর এলাকায় চিত্র আরও ভয়াবহ। কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, মিরপুর-১, পাইকপাড়া, বাংলা কলেজ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি—সবখানেই জমে আছে থইথই পানি। টানা দুই ঘণ্টারও কম সময়ের বৃষ্টিতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। পথচারীরা বলছেন, বৃষ্টি হলেই এখন আতঙ্ক শুরু হয়। পানি নামতে অনেক সময় লাগে, কখনো কখনো গভীর রাত পর্যন্ত জলাবদ্ধতা থেকে যায়।

কাজীপাড়ার বাসিন্দা আবু ইউসুফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহরের ওপরে ঝকঝকে মেট্রোরেল দাঁড়িয়ে থাকলেও নিচে মানুষের হাঁটতে হয় হাঁটুপানিতে। তার ভাষায়, “ড্রেন তো আছে, কিন্তু পানি যাওয়ার কোনো পথ নেই।” স্থানীয়দের অভিযোগ, নর্দমা ভরাট, অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ এবং পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে।

মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকায় দেখা যায়, ফুটপাত পর্যন্ত পানির নিচে ডুবে গেছে। বাস থেকে নামা যাত্রীদের কোমর উঁচু কাপড় গুটিয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে চলতে হয়েছে। দীর্ঘদিনের যাত্রী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই রাস্তায় চলাচল করছেন, কিন্তু প্রতি বর্ষাতেই একই দুর্ভোগ দেখতে হচ্ছে। তার প্রশ্ন, এত প্রকল্প আর উন্নয়ন কাজের পরও কেন জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

ধানমণ্ডি, সোবহানবাগ, রাজাবাজার ও লালমাটিয়া এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ভারি বৃষ্টির পর মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ ছোট খালের মতো হয়ে যায়। অনেক বাসের সিঁড়ি পর্যন্ত পানি উঠে যায়। যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নর্দমা ব্যবস্থাপনা দুর্বল হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

মোহাম্মদপুরের নতুন আবাসিক এলাকাগুলোতেও অবস্থা খুব একটা ভিন্ন নয়। চন্দ্রিমা আবাসন, বসিলা সিটি আবাসন, পশ্চিম ধানমণ্ডি আবাসন ও মেট্রো আবাসন এলাকায় বৃষ্টির পর রাস্তাজুড়ে কাদা আর পানি জমে যায়। স্থানীয়দের দাবি, বছরের পর বছর কর দিলেও এখনো সেখানে কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। অনেক এলাকায় সড়ক কেটে কাজ শুরু করলেও তা শেষ হয়নি, ফলে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

উত্তরার বিভিন্ন খাত ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ নর্দমার ঢাকনা ভাঙা অথবা খোলা অবস্থায় রয়েছে। কোথাও ময়লা জমে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে আছে, কোথাও ভেঙে গেছে পুরো নর্দমা। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উপচে উঠে আসছে সড়কে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিতভাবে নর্দমায় বর্জ্য ফেলা হলেও তা পরিষ্কার করার কার্যকর উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়।

নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান মনে করেন, শুধু পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তার মতে, রাজধানীর খাল, নালা ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনার শিকার। সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং এলাকাভিত্তিক বাস্তব মূল্যায়ন না থাকায় প্রতিবছর একই সংকট ফিরে আসে। তিনি বলেন, দুই সিটি করপোরেশনের আলাদা ব্যবস্থাপনার বদলে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে, যাতে নর্দমা ও খালে বর্জ্য ফেলা বন্ধ হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়নের বড় বড় প্রকল্পের পাশাপাশি রাজধানীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। তা না হলে সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যাওয়া এই নগরীতে নাগরিক দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল