দিকপাল

পদ্মা ব্যারেজসহ ৯ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেন প্রধানমন্ত্রী


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ | ০৫:৪০ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মা ব্যারেজসহ ৯ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) দেশের অবকাঠামো ও জনসেবা খাতের উন্নয়নে ৯টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে, যার মোট প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

একনেক সচিবালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অনুমোদিত এই বিশাল ব্যয়ের বড় অংশই আসবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। মোট ব্যয়ের মধ্যে ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে সরবরাহ করা হবে এবং বাকি ২০৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো নিজস্ব অর্থায়নে সংস্থান করবে। এবারের অনুমোদিত তালিকায় ৩টি সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প স্থান পেয়েছে, ৫টি প্রকল্পে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে এবং ১টি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের সাংস্কৃতিক ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোয় বড় ধরনের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন নির্মাণ—এই দুটি পুরনো প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী পাস করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়াতে জেলা শহরগুলোতে বিদ্যমান কল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে ৩০ শয্যার বিশেষায়িত কেন্দ্রে রূপান্তরের একটি নতুন প্রকল্প অনুমোদন লাভ করেছে। প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে ‘হাই-টেক সিটি-২’ এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণের প্রকল্পটিতেও তৃতীয় দফায় সংশোধন আনা হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কাজের অংশ হিসেবে দেশের সরকারি শিশু পরিবার এবং ছোটমনি নিবাসগুলোর আধুনিকায়ন ও পুনঃনির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামরিক বাহিনীর আবাসন সংকট নিরসনে সাভার সেনানিবাসে আধুনিক ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণের একটি প্রকল্পও সবুজ সংকেত পেয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে সাগরিকা পর্যন্ত আউটার রিং রোডের কাজে পঞ্চমবারের মতো সংশোধনী আনা হয়েছে যাতে দ্রুততম সময়ে এর সুফল সাধারণ মানুষ পেতে পারে। পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে এমন একটি মেগা প্রকল্প হিসেবে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ এর প্রথম পর্যায়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা কৃষি ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ময়মনসিংহের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে ধনুয়া থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত নতুন পাইপলাইন নির্মাণের সংশোধিত প্রকল্পটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

একনেক সভায় মন্ত্রীরা প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর জোর দেন। মূল প্রকল্পের বাইরেও পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতিমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত আরও দুটি উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে সভাকে অবহিত করা হয়, যার মধ্যে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কুর্মিটোলা বিমান বাহিনী ঘাঁটির ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের এই নীতিনির্ধারণী সভায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রীবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বিশেষ ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ অন্যান্য দপ্তরের মন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ আমলারা আলোচনায় অংশ নেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নের ধারা আরও ত্বরান্বিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


পদ্মা ব্যারেজসহ ৯ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) দেশের অবকাঠামো ও জনসেবা খাতের উন্নয়নে ৯টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে, যার মোট প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

একনেক সচিবালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অনুমোদিত এই বিশাল ব্যয়ের বড় অংশই আসবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। মোট ব্যয়ের মধ্যে ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে সরবরাহ করা হবে এবং বাকি ২০৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো নিজস্ব অর্থায়নে সংস্থান করবে। এবারের অনুমোদিত তালিকায় ৩টি সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প স্থান পেয়েছে, ৫টি প্রকল্পে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে এবং ১টি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের সাংস্কৃতিক ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোয় বড় ধরনের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন নির্মাণ—এই দুটি পুরনো প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী পাস করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়াতে জেলা শহরগুলোতে বিদ্যমান কল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে ৩০ শয্যার বিশেষায়িত কেন্দ্রে রূপান্তরের একটি নতুন প্রকল্প অনুমোদন লাভ করেছে। প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে ‘হাই-টেক সিটি-২’ এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণের প্রকল্পটিতেও তৃতীয় দফায় সংশোধন আনা হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কাজের অংশ হিসেবে দেশের সরকারি শিশু পরিবার এবং ছোটমনি নিবাসগুলোর আধুনিকায়ন ও পুনঃনির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামরিক বাহিনীর আবাসন সংকট নিরসনে সাভার সেনানিবাসে আধুনিক ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণের একটি প্রকল্পও সবুজ সংকেত পেয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে সাগরিকা পর্যন্ত আউটার রিং রোডের কাজে পঞ্চমবারের মতো সংশোধনী আনা হয়েছে যাতে দ্রুততম সময়ে এর সুফল সাধারণ মানুষ পেতে পারে। পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে এমন একটি মেগা প্রকল্প হিসেবে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ এর প্রথম পর্যায়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা কৃষি ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ময়মনসিংহের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে ধনুয়া থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত নতুন পাইপলাইন নির্মাণের সংশোধিত প্রকল্পটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

একনেক সভায় মন্ত্রীরা প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর জোর দেন। মূল প্রকল্পের বাইরেও পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতিমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত আরও দুটি উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে সভাকে অবহিত করা হয়, যার মধ্যে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কুর্মিটোলা বিমান বাহিনী ঘাঁটির ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের এই নীতিনির্ধারণী সভায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রীবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বিশেষ ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ অন্যান্য দপ্তরের মন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ আমলারা আলোচনায় অংশ নেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নের ধারা আরও ত্বরান্বিত হবে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল