যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শেষ পর্যন্ত নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এই বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যেই তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মহলে নিজের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই রাজনৈতিক সংকটের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
স্টারমার মন্ত্রিসভার একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী সদস্যের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে নীতিগতভাবে রাজি হলেও তিনি তা করতে চান সম্পূর্ণ ‘নিজের শর্তে’। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে যে, দেশের ভেতরের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির যে চরম বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা যে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়—সেটি প্রধানমন্ত্রী বেশ ভালোভাবেই অনুধাবন করতে পেরেছেন। তবে তিনি কোনো চাপের মুখে হুট করে ক্ষমতা ছেড়ে না দিয়ে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে এবং নিজের পছন্দমতো একটি উপযুক্ত সময়েই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে ইচ্ছুক। আর এই প্রক্রিয়াটিকে নিয়মতান্ত্রিক করতে তিনি খুব শীঘ্রই একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি বা রূপরেখা ঘোষণা করতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।
মূলত সাধারণ ভোটারদের মাঝে তৈরি হওয়া তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের মুখে যুক্তরাজ্যের বর্তমান লেবার সরকার এক গভীর সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। সরকারের ভেতরে ও বাইরে নানা বিতর্ক এবং কেলেঙ্কারি এই সংকটকে আরও বেশি ঘনীভূত করেছে। বিশেষ করে পিটার ম্যান্ডেলসনের বিতর্কিত নিয়োগ এবং বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার পুরোনো সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসায় সরকার নৈতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। এর পাশাপাশি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির অত্যন্ত হতাশাজনক এবং বিপর্যয়কর ফলাফল দলটির ভেতরে ও বাইরে স্টারমারের নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে এখন স্টারমারের পদত্যাগের দাবি অত্যন্ত জোরালো হয়ে উঠেছে।
লেবার সরকারের এই টালমাটাল অবস্থায় সবশেষ বড় ধাক্কাটি এসেছে স্টারমারের নিজের মন্ত্রিসভার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে। আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করার পর তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় জানান যে, ভবিষ্যতে লেবার পার্টির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নিজের প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরবেন। নিজের এক বক্তব্যে তিনি স্টারমারকে আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন, যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ওপর মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মাঝেও কিয়ার স্টারমারের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা এখন একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ইউগোভের সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ঊনসত্তর শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক বর্তমান লেবার প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড ও নীতি নির্ধারণের প্রতি তীব্র অসন্তোষ ও অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, এই মুহূর্তে স্টারমার যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের অনেকেই তার এই করুণ অবস্থাকে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রুসের মাত্র উনপঞ্চাশ দিনের ব্যর্থ ও ক্ষণস্থায়ী শাসনামলের সঙ্গে তুলনা করছেন, যা লেবার পার্টির জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শেষ পর্যন্ত নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এই বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যেই তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মহলে নিজের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই রাজনৈতিক সংকটের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
স্টারমার মন্ত্রিসভার একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী সদস্যের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে নীতিগতভাবে রাজি হলেও তিনি তা করতে চান সম্পূর্ণ ‘নিজের শর্তে’। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে যে, দেশের ভেতরের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির যে চরম বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা যে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়—সেটি প্রধানমন্ত্রী বেশ ভালোভাবেই অনুধাবন করতে পেরেছেন। তবে তিনি কোনো চাপের মুখে হুট করে ক্ষমতা ছেড়ে না দিয়ে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে এবং নিজের পছন্দমতো একটি উপযুক্ত সময়েই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে ইচ্ছুক। আর এই প্রক্রিয়াটিকে নিয়মতান্ত্রিক করতে তিনি খুব শীঘ্রই একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি বা রূপরেখা ঘোষণা করতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।
মূলত সাধারণ ভোটারদের মাঝে তৈরি হওয়া তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের মুখে যুক্তরাজ্যের বর্তমান লেবার সরকার এক গভীর সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। সরকারের ভেতরে ও বাইরে নানা বিতর্ক এবং কেলেঙ্কারি এই সংকটকে আরও বেশি ঘনীভূত করেছে। বিশেষ করে পিটার ম্যান্ডেলসনের বিতর্কিত নিয়োগ এবং বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার পুরোনো সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসায় সরকার নৈতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। এর পাশাপাশি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির অত্যন্ত হতাশাজনক এবং বিপর্যয়কর ফলাফল দলটির ভেতরে ও বাইরে স্টারমারের নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে এখন স্টারমারের পদত্যাগের দাবি অত্যন্ত জোরালো হয়ে উঠেছে।
লেবার সরকারের এই টালমাটাল অবস্থায় সবশেষ বড় ধাক্কাটি এসেছে স্টারমারের নিজের মন্ত্রিসভার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে। আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করার পর তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় জানান যে, ভবিষ্যতে লেবার পার্টির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নিজের প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরবেন। নিজের এক বক্তব্যে তিনি স্টারমারকে আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন, যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ওপর মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মাঝেও কিয়ার স্টারমারের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা এখন একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ইউগোভের সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ঊনসত্তর শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক বর্তমান লেবার প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড ও নীতি নির্ধারণের প্রতি তীব্র অসন্তোষ ও অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, এই মুহূর্তে স্টারমার যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের অনেকেই তার এই করুণ অবস্থাকে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রুসের মাত্র উনপঞ্চাশ দিনের ব্যর্থ ও ক্ষণস্থায়ী শাসনামলের সঙ্গে তুলনা করছেন, যা লেবার পার্টির জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল

আপনার মতামত লিখুন