দিকপাল

আজকের স্বর্ণের দাম ১৭ মে ২০২৬: ভরি প্রতি নতুন দর ঘোষণা


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ | ১১:৪৫ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

আজকের স্বর্ণের দাম ১৭ মে ২০২৬: ভরি প্রতি নতুন দর ঘোষণা

বিশ্ববাজারের ধারাবাহিক পতন এবং এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে আবারও হ্রাস পেয়েছে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম। দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা একমাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন সবশেষ দফায় ভরিতে সর্বোচ্চ চার হাজার তিনশত চুয়াত্তর টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বড় অঙ্কের দাম কমার ফলে এখন থেকে ক্রেতারা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ভালো মানের স্বর্ণ কিনতে পারবেন দুই লাখ আটত্রিশ হাজার একশত একুশ টাকায়, যা সাধারণ ক্রেতা এবং অলঙ্কার প্রেমীদের জন্য বেশ বড় একটি স্বস্তির খবর।

গত শনিবার সকালে জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের এই নতুন মূল্য তালিকা ঘোষণা করা হয়। সংগঠনটির নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার সকাল দশটা থেকেই দেশজুড়ে নতুন এই দাম কার্যকর করা হয়েছে এবং আজ রোববারও সারা দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে এই নির্ধারিত মূল্যেই স্বর্ণ কেনাবেচা চলছে। সংগঠনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে পাকা স্বর্ণ বা তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং দাম কমে যাওয়ার কারণেই সার্বিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য পুনরায় সমন্বয় করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন পুনঃনির্ধারিত মূল্য তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখন থেকে গ্রাহকদের প্রতি ভরি অর্থাৎ এগারো দশমিক ছয়শত চৌষট্টি গ্রাম ওজনের ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ কিনতে গুনতে হবে দুই লাখ আটত্রিশ হাজার একশত একুশ টাকা। একইভাবে মানভেদে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ সাতাশ হাজার তিনশত একত্রিশ টাকা। মাঝারি মানের অলঙ্কার তৈরির জন্য জনপ্রিয় ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন থেকে দাঁড়াবে এক লাখ চুরানব্বই হাজার আটশত সাতচল্লিশ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির পুরনো স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ আটান্ন হাজার ছয়শত ঊননব্বই টাকা।

এর আগে খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, মাত্র এক দিন আগে অর্থাৎ গত পনেরোই মে স্বর্ণের দামের ক্ষেত্রে আরও একটি বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিল জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেই দফায় ভরিতে দুই হাজার দুইশত ষোলো টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দুই লাখ বিয়াল্লিশ হাজার চারশত পঁচানব্বই টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই সময়কার মূল্য তালিকা অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের বাজারমূল্য ছিল দুই লাখ একত্রিশ হাজার চারশত বাহাত্তর টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ছিল এক লাখ আটানব্বই হাজার চারশত পাঁচ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি বিক্রি হয়েছিল এক লাখ একষট্টি হাজার ছয়শত পাঁচ টাকায়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে এক দিনের ব্যবধানে সেই দাম আবারও বড় ব্যবধানে কমে এসেছে।

স্বর্ণের বাজারের এই ওঠানামা বর্তমান সময়ে একটি নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে রেকর্ড সংখ্যক মোট পঁয়ষট্টি বার স্বর্ণের দামের এই কম-বেশি বা সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে দেশের বাজারে পঁয়ত্রিশ বার স্বর্ণের দাম বাড়ানোর রেকর্ড তৈরি হয়েছে এবং বিপরীতে দাম কমানোর ঘটনা ঘটেছে ত্রিশ বার। স্বর্ণের বাজারের এই নজিরবিহীন অস্থিরতা অবশ্য কেবল এই বছরেই সীমাবদ্ধ নয়। বিগত দুই হাজার পঁচিশ সালেও দেশের বাজারে সর্বমোট ৯Lookup বার স্বর্ণের দামের ব্যাপক পরিবর্তন বা সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে চৌষট্টি বার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লেও মাত্র ঊনত্রিশ বার দাম কমানোর সুযোগ পেয়েছিলেন দেশের সাধারণ ক্রেতারা। বিশ্ববাজারের এই ধারাবাহিক পরিবর্তনের কারণে দেশের সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয় পক্ষকেই প্রতিনিয়ত নতুন দামের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


আজকের স্বর্ণের দাম ১৭ মে ২০২৬: ভরি প্রতি নতুন দর ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

বিশ্ববাজারের ধারাবাহিক পতন এবং এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে আবারও হ্রাস পেয়েছে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম। দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা একমাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন সবশেষ দফায় ভরিতে সর্বোচ্চ চার হাজার তিনশত চুয়াত্তর টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বড় অঙ্কের দাম কমার ফলে এখন থেকে ক্রেতারা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ভালো মানের স্বর্ণ কিনতে পারবেন দুই লাখ আটত্রিশ হাজার একশত একুশ টাকায়, যা সাধারণ ক্রেতা এবং অলঙ্কার প্রেমীদের জন্য বেশ বড় একটি স্বস্তির খবর।

গত শনিবার সকালে জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের এই নতুন মূল্য তালিকা ঘোষণা করা হয়। সংগঠনটির নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার সকাল দশটা থেকেই দেশজুড়ে নতুন এই দাম কার্যকর করা হয়েছে এবং আজ রোববারও সারা দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে এই নির্ধারিত মূল্যেই স্বর্ণ কেনাবেচা চলছে। সংগঠনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে পাকা স্বর্ণ বা তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং দাম কমে যাওয়ার কারণেই সার্বিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য পুনরায় সমন্বয় করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন পুনঃনির্ধারিত মূল্য তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখন থেকে গ্রাহকদের প্রতি ভরি অর্থাৎ এগারো দশমিক ছয়শত চৌষট্টি গ্রাম ওজনের ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ কিনতে গুনতে হবে দুই লাখ আটত্রিশ হাজার একশত একুশ টাকা। একইভাবে মানভেদে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ সাতাশ হাজার তিনশত একত্রিশ টাকা। মাঝারি মানের অলঙ্কার তৈরির জন্য জনপ্রিয় ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন থেকে দাঁড়াবে এক লাখ চুরানব্বই হাজার আটশত সাতচল্লিশ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির পুরনো স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ আটান্ন হাজার ছয়শত ঊননব্বই টাকা।

এর আগে খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, মাত্র এক দিন আগে অর্থাৎ গত পনেরোই মে স্বর্ণের দামের ক্ষেত্রে আরও একটি বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিল জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেই দফায় ভরিতে দুই হাজার দুইশত ষোলো টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দুই লাখ বিয়াল্লিশ হাজার চারশত পঁচানব্বই টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই সময়কার মূল্য তালিকা অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের বাজারমূল্য ছিল দুই লাখ একত্রিশ হাজার চারশত বাহাত্তর টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ছিল এক লাখ আটানব্বই হাজার চারশত পাঁচ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি বিক্রি হয়েছিল এক লাখ একষট্টি হাজার ছয়শত পাঁচ টাকায়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে এক দিনের ব্যবধানে সেই দাম আবারও বড় ব্যবধানে কমে এসেছে।

স্বর্ণের বাজারের এই ওঠানামা বর্তমান সময়ে একটি নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে রেকর্ড সংখ্যক মোট পঁয়ষট্টি বার স্বর্ণের দামের এই কম-বেশি বা সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে দেশের বাজারে পঁয়ত্রিশ বার স্বর্ণের দাম বাড়ানোর রেকর্ড তৈরি হয়েছে এবং বিপরীতে দাম কমানোর ঘটনা ঘটেছে ত্রিশ বার। স্বর্ণের বাজারের এই নজিরবিহীন অস্থিরতা অবশ্য কেবল এই বছরেই সীমাবদ্ধ নয়। বিগত দুই হাজার পঁচিশ সালেও দেশের বাজারে সর্বমোট ৯Lookup বার স্বর্ণের দামের ব্যাপক পরিবর্তন বা সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে চৌষট্টি বার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লেও মাত্র ঊনত্রিশ বার দাম কমানোর সুযোগ পেয়েছিলেন দেশের সাধারণ ক্রেতারা। বিশ্ববাজারের এই ধারাবাহিক পরিবর্তনের কারণে দেশের সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয় পক্ষকেই প্রতিনিয়ত নতুন দামের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল