দিকপাল

ট্রাম্পকে হত্যায় ৫০ মিলিয়ন ইউরো পুরস্কার! ইরানি পার্লামেন্টে আলোচিত বিল


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ | ১১:২৪ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ট্রাম্পকে হত্যায় ৫০ মিলিয়ন ইউরো পুরস্কার! ইরানি পার্লামেন্টে আলোচিত বিল

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য পুরস্কার হিসেবে পঞ্চাশ মিলিয়ন ইউরো বা প্রায় পাঁচ কোটি ইউরো প্রদানের একটি বিশেষ বিল গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে ইরানের পার্লামেন্ট। দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও নেতাদের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি ট্রাম্পকে হত্যা করতে পারে, তবে তাকে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে। ইরানের একজন অত্যন্ত জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পেনসিলভেনিয়ার বাটলার ফার্ম শো-তে একটি নির্বাচনী প্রচার সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডান কানে গুলি লেগেছিল, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে।

ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক শক্তিশালী কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত মার্চ মাসে সংঘাত ও যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের আইনপ্রণেতারা মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি কঠোর বিলের খসড়া তৈরি করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম একটি আলোচিত বিল হলো 'সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা পদক্ষেপ'। আজিজি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন যে, তারা মনে করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওই বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট, ইসরায়েলের বিতর্কিত প্রধানমন্ত্রী এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের প্রধানকে অবশ্যই তেহরানের পক্ষ থেকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে হবে এবং তাদের কৃতকর্মের জন্য সমতুল্য ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ইরানি এই শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, এটি ইরানের আইনগত ও ধর্মীয় অধিকার। যেভাবে অতীতে তাদের সম্মানিত সামরিক ও ধর্মীয় নেতাদের অন্যায়ভাবে শহীদ করা হয়েছে, তার প্রতিশোধ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যেকোনো মুসলিম কিংবা স্বাধীনচেতা মানুষকে একইভাবে সশস্ত্র ব্যবস্থা নিতে হবে। বিলে প্রস্তাবিত পুরস্কারের আইনি বাধ্যবাধকতা নিয়ে আজিজি আরও স্পষ্ট করে জানান, যদি কোনো ব্যক্তি বা কোনো নিবন্ধিত আইনি প্রতিষ্ঠান এই ধর্মীয় ও আদর্শিক দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে, তবে ইরানের সরকার রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে তাকে ওই পঞ্চাশ মিলিয়ন ইউরো পুরস্কার হিসেবে দিতে আইনত বাধ্য থাকবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর এই প্রক্রিয়া ইরানে বেশ কিছুদিন ধরেই নানাভাবে চলছে। এর আগে গত মার্চ মাসের শুরুর দিকে ইরানের সাধারণ মোবাইল ব্যবহারকারীদের কাছে একটি বিশেষ গণ-বার্তা পাঠানো হয়েছিল। সেখানে ট্রাম্পকে হত্যার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি 'আন্তর্জাতিক প্রচারণায়' সর্বস্তরের মানুষকে আর্থিক ও মানসিকভাবে সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়। তেহরান-ভিত্তিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'দিদবান ইরান' তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, এই ব্যতিক্রমী প্রচারণায় ইতোমধ্যে দেশটির প্রায় দুই লাখ নব্বই হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমর্থন জানিয়েছেন এবং সাধারণ জনগণের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ২৫ মিলিয়ন বা আড়াই কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

ট্রাম্পের জীবনের ওপর এই ইরানি হুমকির বিষয়টি কেবল কথার কথা নয়, বরং মার্কিন গোয়েন্দা ও বিচার বিভাগের তদন্তেও এর নানা তথ্যপ্রমাণ মিলেছে। কিছুদিন আগে ব্রুকলিন আদালতের একটি গোপন ভিডিওচিত্র প্রকাশ পায়, যেখানে ইরান-সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বর্ণনা করতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি ট্রাম্পকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য দুজনকে ভাড়াটে খুনি হিসেবে নিয়োগ করার চেষ্টা করছেন এবং একটি সাধারণ কাগজের ন্যাপকিনের ওপর কলম রেখে তাঁর মূল লক্ষ্যবস্তু বা টার্গেট চিহ্নিত করছেন। এছাড়া মার্কিন বিচার বিভাগও আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার একটি বড় ধরনের আন্তর্জাতিক চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে, যার পেছনে সরাসরি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি-র হাত ছিল। মূলত ২০২০ সালে ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় আইআরজিসি-র কুদস ফোর্সের তৎকালীন প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে এই ধরনের তীব্র জীবননাশের হুমকির তালিকায় রয়েছেন।

মূল সূত্র: রয়টার্স ও নিউইয়র্ক পোস্ট

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


ট্রাম্পকে হত্যায় ৫০ মিলিয়ন ইউরো পুরস্কার! ইরানি পার্লামেন্টে আলোচিত বিল

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য পুরস্কার হিসেবে পঞ্চাশ মিলিয়ন ইউরো বা প্রায় পাঁচ কোটি ইউরো প্রদানের একটি বিশেষ বিল গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে ইরানের পার্লামেন্ট। দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও নেতাদের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি ট্রাম্পকে হত্যা করতে পারে, তবে তাকে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে। ইরানের একজন অত্যন্ত জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পেনসিলভেনিয়ার বাটলার ফার্ম শো-তে একটি নির্বাচনী প্রচার সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডান কানে গুলি লেগেছিল, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে।

ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক শক্তিশালী কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত মার্চ মাসে সংঘাত ও যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের আইনপ্রণেতারা মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি কঠোর বিলের খসড়া তৈরি করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম একটি আলোচিত বিল হলো 'সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা পদক্ষেপ'। আজিজি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন যে, তারা মনে করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওই বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট, ইসরায়েলের বিতর্কিত প্রধানমন্ত্রী এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের প্রধানকে অবশ্যই তেহরানের পক্ষ থেকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে হবে এবং তাদের কৃতকর্মের জন্য সমতুল্য ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ইরানি এই শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, এটি ইরানের আইনগত ও ধর্মীয় অধিকার। যেভাবে অতীতে তাদের সম্মানিত সামরিক ও ধর্মীয় নেতাদের অন্যায়ভাবে শহীদ করা হয়েছে, তার প্রতিশোধ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যেকোনো মুসলিম কিংবা স্বাধীনচেতা মানুষকে একইভাবে সশস্ত্র ব্যবস্থা নিতে হবে। বিলে প্রস্তাবিত পুরস্কারের আইনি বাধ্যবাধকতা নিয়ে আজিজি আরও স্পষ্ট করে জানান, যদি কোনো ব্যক্তি বা কোনো নিবন্ধিত আইনি প্রতিষ্ঠান এই ধর্মীয় ও আদর্শিক দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে, তবে ইরানের সরকার রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে তাকে ওই পঞ্চাশ মিলিয়ন ইউরো পুরস্কার হিসেবে দিতে আইনত বাধ্য থাকবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর এই প্রক্রিয়া ইরানে বেশ কিছুদিন ধরেই নানাভাবে চলছে। এর আগে গত মার্চ মাসের শুরুর দিকে ইরানের সাধারণ মোবাইল ব্যবহারকারীদের কাছে একটি বিশেষ গণ-বার্তা পাঠানো হয়েছিল। সেখানে ট্রাম্পকে হত্যার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি 'আন্তর্জাতিক প্রচারণায়' সর্বস্তরের মানুষকে আর্থিক ও মানসিকভাবে সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়। তেহরান-ভিত্তিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'দিদবান ইরান' তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, এই ব্যতিক্রমী প্রচারণায় ইতোমধ্যে দেশটির প্রায় দুই লাখ নব্বই হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমর্থন জানিয়েছেন এবং সাধারণ জনগণের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ২৫ মিলিয়ন বা আড়াই কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

ট্রাম্পের জীবনের ওপর এই ইরানি হুমকির বিষয়টি কেবল কথার কথা নয়, বরং মার্কিন গোয়েন্দা ও বিচার বিভাগের তদন্তেও এর নানা তথ্যপ্রমাণ মিলেছে। কিছুদিন আগে ব্রুকলিন আদালতের একটি গোপন ভিডিওচিত্র প্রকাশ পায়, যেখানে ইরান-সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বর্ণনা করতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি ট্রাম্পকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য দুজনকে ভাড়াটে খুনি হিসেবে নিয়োগ করার চেষ্টা করছেন এবং একটি সাধারণ কাগজের ন্যাপকিনের ওপর কলম রেখে তাঁর মূল লক্ষ্যবস্তু বা টার্গেট চিহ্নিত করছেন। এছাড়া মার্কিন বিচার বিভাগও আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার একটি বড় ধরনের আন্তর্জাতিক চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে, যার পেছনে সরাসরি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি-র হাত ছিল। মূলত ২০২০ সালে ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় আইআরজিসি-র কুদস ফোর্সের তৎকালীন প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে এই ধরনের তীব্র জীবননাশের হুমকির তালিকায় রয়েছেন।

মূল সূত্র: রয়টার্স ও নিউইয়র্ক পোস্ট


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল