আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতের পথে হাঁটতেও ইরান পিছপা হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই উত্তেজনার আঁচ শুধু এই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি আঘাত হানছে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনেও। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং এর ক্রমবর্ধমান ব্যয় শেষ পর্যন্ত আমেরিকার সাধারণ জনগণকেই বহন করতে হচ্ছে। নিজের এই দাবির পক্ষে যুক্তি হিসেবে তিনি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির একটি চিত্রও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম যেমন হু হু করে বাড়ছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে উৎপাদিত মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়ে থাকে।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং শেয়ারবাজারের অস্থিরতা তো কেবল শুরু, মার্কিন নাগরিকদের জন্য আসল বড় ধাক্কাটি আসবে তখন, যখন তাদের ব্যক্তিগত ঋণ এবং গৃহঋণের সুদের হার আরও বাড়তে থাকবে। ইতোমধ্যে সেখানে গাড়ি কেনার জন্য নেওয়া ঋণ খেলাপি হওয়ার হার গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যতদিন এই যুদ্ধের হুমকি বজায় থাকবে, ততদিন মূল্যস্ফীতির এই প্রবল চাপ মার্কিন অর্থনীতিকে গ্রাস করতে থাকবে এবং পরিস্থিতি একসময় ভয়াবহ মন্দার দিকে ধাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
একই সুরে সুর মিলিয়ে মার্কিন প্রশাসনকে কটাক্ষ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেন যে, বিশাল অঙ্কের উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আসলে একটি অভিনয়ধর্মী যুদ্ধ পরিচালনা করছে। তার মতে, ওয়াশিংটনের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত নতুন করে একটি বৈশ্বিক আর্থিক সংকট ডেকে আনতে পারে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো পাঁচ শতাংশ সুদে ৩০ বছর মেয়াদি ২৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়া স্পর্শ করেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মনেও এখন বড় ধরনের আশঙ্কার মেঘ জমছে। তারা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির সংকটের কারণে যদি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মূল্যস্ফীতি এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে, তবে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ফেডারেল রিজার্ভ পরিস্থিতি সামাল দিতে সুদের হার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান আলোচনার সবচেয়ে বড় অচলাবস্থার জায়গাটি তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে। ইরান এই আন্তর্জাতিক জলপথে নিজেদের সম্পূর্ণ সার্বভৌম অধিকার ও আইনি স্বীকৃতি দাবি করছে। অন্যদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো এটিকে একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান এব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তারা একটি নতুন নীতিমালা বা ব্যবস্থা প্রস্তুত করেছেন। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব দেশ বা জাহাজ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা বজায় রাখবে, তারা বিশেষ সুবিধা পাবে এবং প্রণালি ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি বা শুল্ক প্রদান করতে হবে। সব মিলিয়ে, আলোচনা যদি কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধানে না পৌঁছায়, তবে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি যে কোনো সময় আরও ঘোলাটে হয়ে উঠতে পারে।
মূল সূত্র: আলজাজিরা

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতের পথে হাঁটতেও ইরান পিছপা হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই উত্তেজনার আঁচ শুধু এই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি আঘাত হানছে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনেও। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং এর ক্রমবর্ধমান ব্যয় শেষ পর্যন্ত আমেরিকার সাধারণ জনগণকেই বহন করতে হচ্ছে। নিজের এই দাবির পক্ষে যুক্তি হিসেবে তিনি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির একটি চিত্রও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম যেমন হু হু করে বাড়ছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে উৎপাদিত মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়ে থাকে।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং শেয়ারবাজারের অস্থিরতা তো কেবল শুরু, মার্কিন নাগরিকদের জন্য আসল বড় ধাক্কাটি আসবে তখন, যখন তাদের ব্যক্তিগত ঋণ এবং গৃহঋণের সুদের হার আরও বাড়তে থাকবে। ইতোমধ্যে সেখানে গাড়ি কেনার জন্য নেওয়া ঋণ খেলাপি হওয়ার হার গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যতদিন এই যুদ্ধের হুমকি বজায় থাকবে, ততদিন মূল্যস্ফীতির এই প্রবল চাপ মার্কিন অর্থনীতিকে গ্রাস করতে থাকবে এবং পরিস্থিতি একসময় ভয়াবহ মন্দার দিকে ধাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
একই সুরে সুর মিলিয়ে মার্কিন প্রশাসনকে কটাক্ষ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেন যে, বিশাল অঙ্কের উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আসলে একটি অভিনয়ধর্মী যুদ্ধ পরিচালনা করছে। তার মতে, ওয়াশিংটনের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত নতুন করে একটি বৈশ্বিক আর্থিক সংকট ডেকে আনতে পারে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো পাঁচ শতাংশ সুদে ৩০ বছর মেয়াদি ২৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়া স্পর্শ করেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মনেও এখন বড় ধরনের আশঙ্কার মেঘ জমছে। তারা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির সংকটের কারণে যদি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মূল্যস্ফীতি এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে, তবে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ফেডারেল রিজার্ভ পরিস্থিতি সামাল দিতে সুদের হার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান আলোচনার সবচেয়ে বড় অচলাবস্থার জায়গাটি তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে। ইরান এই আন্তর্জাতিক জলপথে নিজেদের সম্পূর্ণ সার্বভৌম অধিকার ও আইনি স্বীকৃতি দাবি করছে। অন্যদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো এটিকে একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান এব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তারা একটি নতুন নীতিমালা বা ব্যবস্থা প্রস্তুত করেছেন। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব দেশ বা জাহাজ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা বজায় রাখবে, তারা বিশেষ সুবিধা পাবে এবং প্রণালি ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি বা শুল্ক প্রদান করতে হবে। সব মিলিয়ে, আলোচনা যদি কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধানে না পৌঁছায়, তবে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি যে কোনো সময় আরও ঘোলাটে হয়ে উঠতে পারে।
মূল সূত্র: আলজাজিরা

আপনার মতামত লিখুন