দিকপাল

ফুটওভারব্রিজ ফাঁকা, ভাঙা ডিভাইডারেই পথচারী—বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ | ১১:২১ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ফুটওভারব্রিজ ফাঁকা, ভাঙা ডিভাইডারেই পথচারী—বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পথচারীদের নিরাপদে পারাপারের জন্য পর্যাপ্ত ফুটওভারব্রিজ বা উড়ালসেতু থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহারে চরম অনীহা দেখা যাচ্ছে। মাথার ওপর দিয়ে যাতায়াতের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকার পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক বিভাজক বা ডিভাইডারের ফাঁক গলে রাস্তা পার হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। রাজধানীর বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকায় এই ভাঙা ডিভাইডারগুলো এখন পথচারী ও চালকদের জন্য এক একটি অনিরাপদ ও বিপজ্জনক চোরাপথে পরিণত হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন প্রতিনিয়ত মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে মহানগরের চিরচেনা যানজট পরিস্থিতি আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যবসা ও অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বা টিবিএস-এর এক বিশেষ সরেজমিন প্রতিবেদন থেকে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনার এই করুণ চিত্র উঠে এসেছে।

ঢাকার ব্যস্ততম নিউমার্কেট এলাকায় গেলে এই অব্যবস্থাপনার সবচেয়ে বাস্তব চিত্র চোখে পড়ে। সেখানকার ব্যস্ত সড়কের ওপরেই পথচারীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি বিশাল ও আধুনিক উড়ালসেতু। কিন্তু ঠিক তার নিচেই দেখা যায় সম্পূর্ণ উল্টো এক দৃশ্য। মাঝসড়কের লোহার নিরাপত্তা বেষ্টনী বা ডিভাইডারের বেশ কয়েকটি জায়গা ভেঙে বড় বড় ফাঁক তৈরি হয়ে আছে। সেই বিপজ্জনক ফাঁকা অংশ দিয়েই অনবরত রাস্তা পার হচ্ছেন শত শত মানুষ। রাস্তা পার হওয়া এই মানুষের তালিকায় যেমন রয়েছেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অফিসগামী কর্মজীবী, তেমনি আছেন কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ ক্রেতারাও। তাদের গা ঘেঁষেই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছুটে চলছে যাত্রীবাহী বাস, রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি। অথচ একটু সচেতন হয়ে জেব্রা ক্রসিং কিংবা উড়ালসেতু ব্যবহার না করে সবাই এই ভাঙা অংশ দিয়েই যাতায়াত করছেন। কেন উড়ালসেতু ব্যবহার করছেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী সরাসরি জানান যে, উড়ালসেতুতে উঠতে অনেক সময় ও বাড়তি শ্রম লাগে, আর ডিভাইডারে ফাঁক থাকায় সহজেই পার হওয়া যায়। অন্যদিকে ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, সবাই যেহেতু এভাবেই পার হচ্ছে, তাই তারাও একই পথ অনুসরণ করছেন। যদি ডিভাইডারগুলো অক্ষত ও পুরোপুরি বন্ধ থাকত, তবে হয়তো বাধ্য হয়েই নির্দিষ্ট নিরাপদ পথ ব্যবহার করতে হতো।

কেবল নিউমার্কেট কিংবা নীলক্ষেত এলাকাই নয়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন রামপুরা, বাড্ডা, নতুন বাজার, কুড়িল বিশ্বরোড, মগবাজার এবং তেজগাঁও সাতরাস্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়কগুলোরও একই দশা। এসব এলাকার সড়ক বিভাজকের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও লোহার সুরক্ষাপাত উধাও হয়ে গেছে, আবার কোথাও পুরো কাঠামোটিকেই দুমড়ে-মুচড়ে ফেলা হয়েছে। এই সুযোগে পথচারীদের পাশাপাশি অনেক মোটরসাইকেল চালককেও সুযোগ বুঝে উল্টো পথে গাড়ি চালাতে দেখা যায়। রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনের ঠিক সামনে উড়ালসেতু থাকার পরও মানুষ মূল সড়ক দিয়েই পারাপার করছে। রামপুরা আবুল হোটেল থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত দীর্ঘ সড়ক জুড়েই ডিভাইডারের বিভিন্ন অংশ ভাঙা। মগবাজার ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকাতেও একই চিত্র। সড়কে শৃঙ্খলা না থাকায় গণপরিবহনের চালকদেরও প্রতিনিয়ত পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে। ঠিকানা পরিবহনের একজন চালক তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঢাকার প্রায় সব এলাকার ডিভাইডার ভাঙা হওয়ায় হঠাৎ করেই গাড়ির সামনে মানুষ চলে আসে। দুর্ঘটনা এড়াতে তখন হুট করে শক্ত ব্রেক করতে হয়, যার ফলে পেছনের অন্য গাড়ি এসে ধাক্কা দেওয়ার উপক্রম হয়। আর কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সব দায় চাপানো হয় চালকের ওপর।

অনিয়ন্ত্রিতভাবে রাস্তা পারাপারের কারণে সড়কে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও। বাড্ডা লিংক রোড ও নিউমার্কেট মোড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্টরা জানান, মানুষ যখন-তখন যে কোনো স্থান দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করায় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা এবং যানজট সামলানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে। ডিভাইডারগুলো যদি উঁচু এবং সুরক্ষিত থাকত, তবে মানুষ বাধ্য হয়ে উড়ালসেতু ব্যবহার করত এবং সড়কে এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হতো না। নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান এই বিষয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়ে জানিয়েছেন যে, ঢাকার সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে ডিভাইডারে অত্যন্ত শক্ত ও স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে পথচারীদের উড়ালসেতু ব্যবহারে বাধ্য করার মতো আইনি কঠোরতা প্রয়োজন। তিনি আরও পরামর্শ দেন যে, কেবল কংক্রিটের উঁচু দেয়াল না দিয়ে ডিভাইডারে যদি পরিকল্পিতভাবে গাছপালা রোপণ করা যায়, তবে পথচারী পারাপার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শহরের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষা পাবে। এছাড়া ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি এবং নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের প্রচারণা চালানোর ওপরও জোর দেন তিনি।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর যেসব এলাকায় তীব্র সংঘর্ষ ও সংঘাত হয়েছিল, মূলত সেসব এলাকার সড়ক বিভাজক ও লোহার গ্রিলগুলোর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। আন্দোলন শেষ হওয়ার পর বেশ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এগুলো মেরামতের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, আব্দুল্লাহপুরসহ প্রগতি সরণির বিভিন্ন অংশে ক্ষতিগ্রস্ত ডিভাইডারের সংখ্যা অনেক বেশি। তবে এই বিষয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান যে, ধাপে ধাপে ক্ষতিগ্রস্ত ডিভাইডার সংস্কার ও নতুন ফেন্সিং বা বেষ্টনী স্থাপনের কাজ চলছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের চাহিদা এবং সড়কের গুরুত্ব বিবেচনা করে বিভিন্ন সড়কের মাঝখানের দ্বীপাঞ্চলে আরসিসি মিডিয়ান নির্মাণ ও গ্রিল স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ব্যস্ত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। লোহার গ্রিল বা বেষ্টনীগুলো বারবার চুরি হয়ে যাওয়ার কারণে এবার লোহার পরিবর্তে কংক্রিটের আরসিসি মিডিয়ান নির্মাণের বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং চুরি ঠেকাতে পুলিশের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


ফুটওভারব্রিজ ফাঁকা, ভাঙা ডিভাইডারেই পথচারী—বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পথচারীদের নিরাপদে পারাপারের জন্য পর্যাপ্ত ফুটওভারব্রিজ বা উড়ালসেতু থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহারে চরম অনীহা দেখা যাচ্ছে। মাথার ওপর দিয়ে যাতায়াতের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকার পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক বিভাজক বা ডিভাইডারের ফাঁক গলে রাস্তা পার হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। রাজধানীর বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকায় এই ভাঙা ডিভাইডারগুলো এখন পথচারী ও চালকদের জন্য এক একটি অনিরাপদ ও বিপজ্জনক চোরাপথে পরিণত হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন প্রতিনিয়ত মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে মহানগরের চিরচেনা যানজট পরিস্থিতি আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যবসা ও অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বা টিবিএস-এর এক বিশেষ সরেজমিন প্রতিবেদন থেকে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনার এই করুণ চিত্র উঠে এসেছে।

ঢাকার ব্যস্ততম নিউমার্কেট এলাকায় গেলে এই অব্যবস্থাপনার সবচেয়ে বাস্তব চিত্র চোখে পড়ে। সেখানকার ব্যস্ত সড়কের ওপরেই পথচারীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি বিশাল ও আধুনিক উড়ালসেতু। কিন্তু ঠিক তার নিচেই দেখা যায় সম্পূর্ণ উল্টো এক দৃশ্য। মাঝসড়কের লোহার নিরাপত্তা বেষ্টনী বা ডিভাইডারের বেশ কয়েকটি জায়গা ভেঙে বড় বড় ফাঁক তৈরি হয়ে আছে। সেই বিপজ্জনক ফাঁকা অংশ দিয়েই অনবরত রাস্তা পার হচ্ছেন শত শত মানুষ। রাস্তা পার হওয়া এই মানুষের তালিকায় যেমন রয়েছেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অফিসগামী কর্মজীবী, তেমনি আছেন কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ ক্রেতারাও। তাদের গা ঘেঁষেই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছুটে চলছে যাত্রীবাহী বাস, রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি। অথচ একটু সচেতন হয়ে জেব্রা ক্রসিং কিংবা উড়ালসেতু ব্যবহার না করে সবাই এই ভাঙা অংশ দিয়েই যাতায়াত করছেন। কেন উড়ালসেতু ব্যবহার করছেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী সরাসরি জানান যে, উড়ালসেতুতে উঠতে অনেক সময় ও বাড়তি শ্রম লাগে, আর ডিভাইডারে ফাঁক থাকায় সহজেই পার হওয়া যায়। অন্যদিকে ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, সবাই যেহেতু এভাবেই পার হচ্ছে, তাই তারাও একই পথ অনুসরণ করছেন। যদি ডিভাইডারগুলো অক্ষত ও পুরোপুরি বন্ধ থাকত, তবে হয়তো বাধ্য হয়েই নির্দিষ্ট নিরাপদ পথ ব্যবহার করতে হতো।

কেবল নিউমার্কেট কিংবা নীলক্ষেত এলাকাই নয়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন রামপুরা, বাড্ডা, নতুন বাজার, কুড়িল বিশ্বরোড, মগবাজার এবং তেজগাঁও সাতরাস্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়কগুলোরও একই দশা। এসব এলাকার সড়ক বিভাজকের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও লোহার সুরক্ষাপাত উধাও হয়ে গেছে, আবার কোথাও পুরো কাঠামোটিকেই দুমড়ে-মুচড়ে ফেলা হয়েছে। এই সুযোগে পথচারীদের পাশাপাশি অনেক মোটরসাইকেল চালককেও সুযোগ বুঝে উল্টো পথে গাড়ি চালাতে দেখা যায়। রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনের ঠিক সামনে উড়ালসেতু থাকার পরও মানুষ মূল সড়ক দিয়েই পারাপার করছে। রামপুরা আবুল হোটেল থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত দীর্ঘ সড়ক জুড়েই ডিভাইডারের বিভিন্ন অংশ ভাঙা। মগবাজার ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকাতেও একই চিত্র। সড়কে শৃঙ্খলা না থাকায় গণপরিবহনের চালকদেরও প্রতিনিয়ত পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে। ঠিকানা পরিবহনের একজন চালক তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঢাকার প্রায় সব এলাকার ডিভাইডার ভাঙা হওয়ায় হঠাৎ করেই গাড়ির সামনে মানুষ চলে আসে। দুর্ঘটনা এড়াতে তখন হুট করে শক্ত ব্রেক করতে হয়, যার ফলে পেছনের অন্য গাড়ি এসে ধাক্কা দেওয়ার উপক্রম হয়। আর কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সব দায় চাপানো হয় চালকের ওপর।

অনিয়ন্ত্রিতভাবে রাস্তা পারাপারের কারণে সড়কে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও। বাড্ডা লিংক রোড ও নিউমার্কেট মোড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্টরা জানান, মানুষ যখন-তখন যে কোনো স্থান দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করায় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা এবং যানজট সামলানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে। ডিভাইডারগুলো যদি উঁচু এবং সুরক্ষিত থাকত, তবে মানুষ বাধ্য হয়ে উড়ালসেতু ব্যবহার করত এবং সড়কে এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হতো না। নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান এই বিষয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়ে জানিয়েছেন যে, ঢাকার সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে ডিভাইডারে অত্যন্ত শক্ত ও স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে পথচারীদের উড়ালসেতু ব্যবহারে বাধ্য করার মতো আইনি কঠোরতা প্রয়োজন। তিনি আরও পরামর্শ দেন যে, কেবল কংক্রিটের উঁচু দেয়াল না দিয়ে ডিভাইডারে যদি পরিকল্পিতভাবে গাছপালা রোপণ করা যায়, তবে পথচারী পারাপার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শহরের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষা পাবে। এছাড়া ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি এবং নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের প্রচারণা চালানোর ওপরও জোর দেন তিনি।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর যেসব এলাকায় তীব্র সংঘর্ষ ও সংঘাত হয়েছিল, মূলত সেসব এলাকার সড়ক বিভাজক ও লোহার গ্রিলগুলোর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। আন্দোলন শেষ হওয়ার পর বেশ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এগুলো মেরামতের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, আব্দুল্লাহপুরসহ প্রগতি সরণির বিভিন্ন অংশে ক্ষতিগ্রস্ত ডিভাইডারের সংখ্যা অনেক বেশি। তবে এই বিষয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান যে, ধাপে ধাপে ক্ষতিগ্রস্ত ডিভাইডার সংস্কার ও নতুন ফেন্সিং বা বেষ্টনী স্থাপনের কাজ চলছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের চাহিদা এবং সড়কের গুরুত্ব বিবেচনা করে বিভিন্ন সড়কের মাঝখানের দ্বীপাঞ্চলে আরসিসি মিডিয়ান নির্মাণ ও গ্রিল স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ব্যস্ত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। লোহার গ্রিল বা বেষ্টনীগুলো বারবার চুরি হয়ে যাওয়ার কারণে এবার লোহার পরিবর্তে কংক্রিটের আরসিসি মিডিয়ান নির্মাণের বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং চুরি ঠেকাতে পুলিশের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল