আসন্ন ডিসেম্বর মাসে ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তা নবায়নের জন্য জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এক অনুষ্ঠানে বলেছেন যে, উজান ও ভাটির দেশের মধ্যকার নদীকেন্দ্রিক সমস্যা সমাধানের জন্য যে সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন, চুক্তি এবং প্রটোকল রয়েছে, সেগুলোকে ভিত্তি করে বর্তমান সরকার কাজ করছে। বাংলাদেশ যাতে তার পানির ন্যায্য ও আইনগত হিস্যা থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে একটি সম্মিলিত ঐক্যের মাধ্যমে শক্তিশালী ও কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে এই চুক্তি নবায়ন করা হবে।
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে তথ্যমন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। রাজনৈতিক দল 'ভাসানী জনশক্তি পার্টি' এই বিশেষ সভার আয়োজন করে। মওলানা ভাসানীর দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সেই সময়ে উজানের প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে পানি বণ্টনের ব্যাপারে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট বা গ্রহণযোগ্য আন্তর্জাতিক চুক্তি না থাকা সত্ত্বেও এই দূরদর্শী নেতা ফারাক্কা বাঁধের কারণে সৃষ্ট সংকটের ভয়াবহতা ও এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব আঁচ করতে পেরেছিলেন। আর সে কারণেই তিনি দেশের মানুষকে জাগ্রত করতে এবং নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে শামিল করতে সেই ঐতিহাসিক লংমার্চের ডাক দিয়েছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন যে, মওলানা ভাসানী আজীবন সাধারণ মানুষের কল্যাণের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ করার রাজনীতি করে গেছেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন যে, এই দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধের শক্তিশালী পাটাতন বা ভিত্তি ছাড়া নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষা, সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং অসাম্প্রদায়িকতার দীর্ঘ সংগ্রাম সফল করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। জহির উদ্দিন স্বপন দাবি করেন, দেশের বর্তমান নবনির্বাচিত সরকার মওলানা ভাসানীর সেই জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক দর্শন ও চেতনার সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং তাঁরই প্রদর্শিত প্রতীককে রাজনৈতিকভাবে ধারণ করছে। এই ধারার রাজনীতির মধ্যেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি ফারাক্কা তথা অভিন্ন নদীগুলোর পানি সমস্যার একটি স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধানের পথ নিহিত রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঐতিহাসিক এই দিবসের তাৎপর্য এবং বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত সুরক্ষায় পানির অধিকারের বিষয়টি নিয়ে সভায় আরও বহু শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও বুদ্ধিজীবী বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের সভাপতি আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন আহমদ, সাবেক মন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা নূর মোহাম্মদ খান এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর।
ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে এবং দলের মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিমের অত্যন্ত নিপুণ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত সকল বক্তা ও দেশের বিশিষ্ট নাগরিকেরা মওলানা ভাসানীর কালজয়ী আদর্শে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁরা একই সঙ্গে বাংলাদেশের পরিবেশ, কৃষি ও নদীমাতৃক জীবনযাত্রাকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এবং প্রতিবেশী দেশের একতরফা পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে রুখে দাঁড়ানোর তীব্র প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান নদী সমস্যাগুলোর সমাধানে আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর তারা বিশেষভাবে জোর দেন।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
আসন্ন ডিসেম্বর মাসে ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তা নবায়নের জন্য জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এক অনুষ্ঠানে বলেছেন যে, উজান ও ভাটির দেশের মধ্যকার নদীকেন্দ্রিক সমস্যা সমাধানের জন্য যে সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন, চুক্তি এবং প্রটোকল রয়েছে, সেগুলোকে ভিত্তি করে বর্তমান সরকার কাজ করছে। বাংলাদেশ যাতে তার পানির ন্যায্য ও আইনগত হিস্যা থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে একটি সম্মিলিত ঐক্যের মাধ্যমে শক্তিশালী ও কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে এই চুক্তি নবায়ন করা হবে।
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে তথ্যমন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। রাজনৈতিক দল 'ভাসানী জনশক্তি পার্টি' এই বিশেষ সভার আয়োজন করে। মওলানা ভাসানীর দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সেই সময়ে উজানের প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে পানি বণ্টনের ব্যাপারে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট বা গ্রহণযোগ্য আন্তর্জাতিক চুক্তি না থাকা সত্ত্বেও এই দূরদর্শী নেতা ফারাক্কা বাঁধের কারণে সৃষ্ট সংকটের ভয়াবহতা ও এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব আঁচ করতে পেরেছিলেন। আর সে কারণেই তিনি দেশের মানুষকে জাগ্রত করতে এবং নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে শামিল করতে সেই ঐতিহাসিক লংমার্চের ডাক দিয়েছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন যে, মওলানা ভাসানী আজীবন সাধারণ মানুষের কল্যাণের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ করার রাজনীতি করে গেছেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন যে, এই দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধের শক্তিশালী পাটাতন বা ভিত্তি ছাড়া নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষা, সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং অসাম্প্রদায়িকতার দীর্ঘ সংগ্রাম সফল করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। জহির উদ্দিন স্বপন দাবি করেন, দেশের বর্তমান নবনির্বাচিত সরকার মওলানা ভাসানীর সেই জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক দর্শন ও চেতনার সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং তাঁরই প্রদর্শিত প্রতীককে রাজনৈতিকভাবে ধারণ করছে। এই ধারার রাজনীতির মধ্যেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি ফারাক্কা তথা অভিন্ন নদীগুলোর পানি সমস্যার একটি স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধানের পথ নিহিত রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঐতিহাসিক এই দিবসের তাৎপর্য এবং বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত সুরক্ষায় পানির অধিকারের বিষয়টি নিয়ে সভায় আরও বহু শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও বুদ্ধিজীবী বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের সভাপতি আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন আহমদ, সাবেক মন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা নূর মোহাম্মদ খান এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর।
ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে এবং দলের মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিমের অত্যন্ত নিপুণ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত সকল বক্তা ও দেশের বিশিষ্ট নাগরিকেরা মওলানা ভাসানীর কালজয়ী আদর্শে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁরা একই সঙ্গে বাংলাদেশের পরিবেশ, কৃষি ও নদীমাতৃক জীবনযাত্রাকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এবং প্রতিবেশী দেশের একতরফা পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে রুখে দাঁড়ানোর তীব্র প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান নদী সমস্যাগুলোর সমাধানে আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর তারা বিশেষভাবে জোর দেন।

আপনার মতামত লিখুন