দিকপাল

চাঁদপুরে কৃষকের পাশে প্রধানমন্ত্রী, দেশ পুনর্গঠনের নতুন প্রতিজ্ঞা


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ | ১০:২৬ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

চাঁদপুরে কৃষকের পাশে প্রধানমন্ত্রী, দেশ পুনর্গঠনের নতুন প্রতিজ্ঞা

দেশ গঠন এবং সামগ্রিক রাষ্ট্র পুনর্গঠনই বর্তমান সরকারের একমাত্র লক্ষ্য ও প্রধান প্রতিজ্ঞা বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান তারেক রহমান। চাঁদপুর সফরের অংশ হিসেবে শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারের খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে এক বিশাল জনসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে এ সফরের বিস্তারিত তথ্য জানা গেছে।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী অতীত স্মরণের মাধ্যমে দেশ গড়ার নতুন ডাক দিয়ে বলেন, প্রায় আটচল্লিশ বছর আগে এই দেশ গঠন ও উন্নয়নের অংশ হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। তাঁর সেই আদর্শকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করার আহ্বান জানান তিনি। কেবল কল্পনানির্ভর স্বপ্ন নয়, বরং সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেন সরকারপ্রধান। এর আগে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে দীর্ঘ তেরো দশমিক পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ খোর্দ্দ খালটির পুনঃখনন কাজের সূচনা করেন এবং খালের তীরে নেমে নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ও বৃক্ষরোপণ করে কর্মসূচির গতি বাড়ান। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ১৯৭৮ সালে ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গে যুক্ত এই খালটি প্রথম খনন করা হয়েছিল, যার সুফল পেয়েছিলেন এলাকার কৃষকেরা। দীর্ঘ চার দশক পর জিয়াউর রহমানের সন্তানের হাত ধরে পুনরায় এই উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় কৃষক সমাজ অত্যন্ত আনন্দিত।

চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রধান সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। চাঁদপুর যাওয়ার পুরো পথজুড়ে প্রধানমন্ত্রীকে ব্যাপক গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। ঢাকা ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা পার হওয়ার সময় দলীয় নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে ফুল দিয়ে ও স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, দেশের সাধারণ জনগণই সব রাজনৈতিক ক্ষমতার মূল উৎস এবং জনগণের সমর্থন ও ভালোবাসাই সরকারের মূল চালিকাশক্তি।

চাঁদপুর সফরের পথিমধ্যে কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়কের পাশে বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার খেলার মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধানমন্ত্রী বিগত প্রায় দুই দশকের রাজনৈতিক অচলাবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সতেরো বছর ধরে দেশের মানুষের কোনো ভোটাধিকার ছিল না এবং স্বৈরাচারী শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে মানুষ হত্যা, গুম ও অর্থ পাচারের শিকার হয়েছে। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের বীর শহীদদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশের হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই সভায় তিনি কুমিল্লার স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে বলেন, কুমিল্লা বিভাগ গঠন এবং এখানে একটি বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া বেকারত্ব দূরীকরণ এবং নারীদের অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগতভাবে স্বাবলম্বী করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বরুড়ার এই সভায় সভাপতিত্ব করেন গণপূর্তমন্ত্রী ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা দলের সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন, যেখানে অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও বক্তব্য দেন।

একই দিনে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ বাজারে আয়োজিত অপর এক বিশাল পথসভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য একটি বড় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, জনগণের ভোটে দায়িত্ব পাওয়ার পর সরকার দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রায় পঞ্চাশ লাখ দুস্থ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আগামী জুনের জাতীয় বাজেটে বড় অঙ্কের আর্থিক বরাদ্দ রাখা হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই চাঁদপুর যাত্রাকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও কুমিল্লার মহাসড়কগুলোতে জনস্রোত লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানীর টিকাটুলিতে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক মানুষ মহাসড়কে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। এছাড়া ঢাকা মহানগরীর শনির আখড়ায় এক বিশাল জমায়েতের মাধ্যমে দলের নেতা-কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ইলিওটগঞ্জ অংশে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের নেতৃত্বে এক অনন্য সাধারণ ঢল নামে। সেখানে মুসলিম, হিন্দু, আলেম-ওলামা, ইমাম এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানান। বিশেষ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি বেতন-বোনাস চালু এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি পুরোহিতদের বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করায় তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই বিপুল ভালোবাসার জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর গাড়ি থামিয়ে ধর্মমন্ত্রীর সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে খাল খনন কর্মসূচির পর এক মানবিক ও অনন্য দৃশ্যের অবতারণা হয়। প্রধানমন্ত্রী সমাবেশ থেকে সাইফুল ইসলাম লিটন নামের এক সাধারণ কৃষককে মঞ্চে ডেকে নিজের পাশে বসান। অত্যন্ত পরম মমতায় ও আন্তরিকতায় তিনি সেই প্রান্তিক কৃষকের সুখ-দুঃখ এবং চাষাবাদের সমস্যার কথা শোনেন। দেশের সরকারপ্রধানের এমন নিরহংকার ও সাধারণ আচরণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওই কৃষক। তিনি এটিকে তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা ও স্মরণীয় মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন।

সফরের শেষ অংশে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে দেশের ২২টি জেলায় একযোগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে, যার মধ্যে গ্রামের প্রান্তিক নারীরা অগ্রাধিকার পাবেন। এছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়নে আগামী বাজেটে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান। চাঁদপুরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সেখানে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমানকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বেশ কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


চাঁদপুরে কৃষকের পাশে প্রধানমন্ত্রী, দেশ পুনর্গঠনের নতুন প্রতিজ্ঞা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

দেশ গঠন এবং সামগ্রিক রাষ্ট্র পুনর্গঠনই বর্তমান সরকারের একমাত্র লক্ষ্য ও প্রধান প্রতিজ্ঞা বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান তারেক রহমান। চাঁদপুর সফরের অংশ হিসেবে শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারের খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে এক বিশাল জনসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে এ সফরের বিস্তারিত তথ্য জানা গেছে।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী অতীত স্মরণের মাধ্যমে দেশ গড়ার নতুন ডাক দিয়ে বলেন, প্রায় আটচল্লিশ বছর আগে এই দেশ গঠন ও উন্নয়নের অংশ হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। তাঁর সেই আদর্শকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করার আহ্বান জানান তিনি। কেবল কল্পনানির্ভর স্বপ্ন নয়, বরং সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেন সরকারপ্রধান। এর আগে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে দীর্ঘ তেরো দশমিক পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ খোর্দ্দ খালটির পুনঃখনন কাজের সূচনা করেন এবং খালের তীরে নেমে নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ও বৃক্ষরোপণ করে কর্মসূচির গতি বাড়ান। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ১৯৭৮ সালে ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গে যুক্ত এই খালটি প্রথম খনন করা হয়েছিল, যার সুফল পেয়েছিলেন এলাকার কৃষকেরা। দীর্ঘ চার দশক পর জিয়াউর রহমানের সন্তানের হাত ধরে পুনরায় এই উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় কৃষক সমাজ অত্যন্ত আনন্দিত।

চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রধান সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। চাঁদপুর যাওয়ার পুরো পথজুড়ে প্রধানমন্ত্রীকে ব্যাপক গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। ঢাকা ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা পার হওয়ার সময় দলীয় নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে ফুল দিয়ে ও স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, দেশের সাধারণ জনগণই সব রাজনৈতিক ক্ষমতার মূল উৎস এবং জনগণের সমর্থন ও ভালোবাসাই সরকারের মূল চালিকাশক্তি।

চাঁদপুর সফরের পথিমধ্যে কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়কের পাশে বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার খেলার মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধানমন্ত্রী বিগত প্রায় দুই দশকের রাজনৈতিক অচলাবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সতেরো বছর ধরে দেশের মানুষের কোনো ভোটাধিকার ছিল না এবং স্বৈরাচারী শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে মানুষ হত্যা, গুম ও অর্থ পাচারের শিকার হয়েছে। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের বীর শহীদদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশের হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই সভায় তিনি কুমিল্লার স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে বলেন, কুমিল্লা বিভাগ গঠন এবং এখানে একটি বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া বেকারত্ব দূরীকরণ এবং নারীদের অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগতভাবে স্বাবলম্বী করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বরুড়ার এই সভায় সভাপতিত্ব করেন গণপূর্তমন্ত্রী ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা দলের সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন, যেখানে অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও বক্তব্য দেন।

একই দিনে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ বাজারে আয়োজিত অপর এক বিশাল পথসভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য একটি বড় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, জনগণের ভোটে দায়িত্ব পাওয়ার পর সরকার দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রায় পঞ্চাশ লাখ দুস্থ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আগামী জুনের জাতীয় বাজেটে বড় অঙ্কের আর্থিক বরাদ্দ রাখা হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই চাঁদপুর যাত্রাকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও কুমিল্লার মহাসড়কগুলোতে জনস্রোত লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানীর টিকাটুলিতে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক মানুষ মহাসড়কে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। এছাড়া ঢাকা মহানগরীর শনির আখড়ায় এক বিশাল জমায়েতের মাধ্যমে দলের নেতা-কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ইলিওটগঞ্জ অংশে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের নেতৃত্বে এক অনন্য সাধারণ ঢল নামে। সেখানে মুসলিম, হিন্দু, আলেম-ওলামা, ইমাম এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানান। বিশেষ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি বেতন-বোনাস চালু এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি পুরোহিতদের বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করায় তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই বিপুল ভালোবাসার জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর গাড়ি থামিয়ে ধর্মমন্ত্রীর সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে খাল খনন কর্মসূচির পর এক মানবিক ও অনন্য দৃশ্যের অবতারণা হয়। প্রধানমন্ত্রী সমাবেশ থেকে সাইফুল ইসলাম লিটন নামের এক সাধারণ কৃষককে মঞ্চে ডেকে নিজের পাশে বসান। অত্যন্ত পরম মমতায় ও আন্তরিকতায় তিনি সেই প্রান্তিক কৃষকের সুখ-দুঃখ এবং চাষাবাদের সমস্যার কথা শোনেন। দেশের সরকারপ্রধানের এমন নিরহংকার ও সাধারণ আচরণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওই কৃষক। তিনি এটিকে তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা ও স্মরণীয় মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন।

সফরের শেষ অংশে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে দেশের ২২টি জেলায় একযোগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে, যার মধ্যে গ্রামের প্রান্তিক নারীরা অগ্রাধিকার পাবেন। এছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়নে আগামী বাজেটে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান। চাঁদপুরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সেখানে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমানকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বেশ কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল